সুস্মিতা কুণ্ডু
ভালুকস্যারের পাঠশালাতে হরেকরকম শিষ্য,
বাঘ সিংগি জেব্রা জিরাফ ময়না টিয়ে এক’শ।
নামতা পড়ে, বানান লেখে, অঙ্ক কষে দিনভর,
ছবি আঁকে, গানও করে, খেলাও জমে জব্বর।
সাতসকালে সূয্যিমামা ওঠেন পাহাড় বেয়ে,
ভালুকমশাই দেন রওয়ানা পরিপাটি হয়ে।
নদীর জলে ডুবটি দিয়েই গুগলি গেঁড়ি খান,
এক ডুবেতে দু’কাজ সারা, খাওয়া আর চান।
পাঠশালেতে পৌঁছে স্যারের, ঘুমটি ধরে খাসা,
টেবিলেতে ঠ্যাংটি তুলে, বাজান বাদ্যি নাসা।
শিষ্যরা সব বড্ড ভালো লক্ষ্মী হয়েই থাকে,
শ্লেটের ওপর খড়ি দিয়ে কাটাকুটি আঁকে।
ভালুকমশাই স্বপ্নে দেখেন মধুভরা মৌচাক,
বিভোর হয়ে আরও জোরে ডাকতে থাকেন নাক।
ঘঁড়র ঘঁড়র ঘোঁৎ ঘোঁৎ, ফঁড়র ফঁড়র ফোঁৎ ফোঁৎ,
কাহারবা আর দাদরা তালে, বাজনা চলে জবরদস্ত।
স্বপ্নে খেয়ে দুই চাক মৌ, ভালুকমশাই মাতেন,
ঘুমের ঘোরে আকাশপানে, হাত পা ছুঁড়ে নাচেন।
টেবিল ছিল নড়বড়ে আর চেয়ার ভাঙাচোরা,
হঠাৎ জোরে মড়াৎ করে, ভাঙল পায়াজোড়া।
দড়াম করে আছাড় খেয়ে ভালুকস্যারের কান্না,
অনেক হ’ল ফাঁকিবাজী, এবার থেকে আর না।
“নিজের দোষে লোভের বশে, পেলুম মাজায় ব্যথা,
পাঠশালে আর ঢুলব নাকো, দিলুম আমি কথা!”
(সমাপ্ত)

No comments:
Post a Comment