গল্প : কল্পকথা

কল্পকথা
সুস্মিতা কুণ্ডু

পিকাই নীল সাইকেলটা, মিঠির লাল সাইকেলের পাশে রেখে ছুটেছুটে ঢুকল লাইব্রেরিতে। নির্ঘাৎ বকুনি কপালে আছে। মিঠি পিকাইয়ের বেস্ট ফ্রেণ্ড হলে কী হবে, বড্ড শাসন করে ওকে। 

বড় দরজাটার ও’পারে উঁকি মেরে দেখে, দূরের কোণের টেবলটায় দু’হাতের তালুতে থুতনি রেখে, মিঠি একটা বইয়ে ডুবে রয়েছে। চুপিচুপি এসে পিকাই একটা সাই-ফাই থ্রিলার নিয়ে, উল্টোদিকের চেয়ারে বসে পড়ে। মিঠি ওমনি কটমট করে তাকিয়ে, চেয়ারটা ঠেলে উঠে দাঁড়ায়। কাউন্টারে লাইব্রেরিকাকুর জাবদা খাতায় সই করে, বইটা নিয়ে বাইরে চলে যায়। 
-“উফফ খুব জোর রেগে গেছে পাগলিটা!”
পিকাইও অগত্যা ওর বইটা সই করে নিয়ে, ছোটে। 

বেরিয়ে দেখে, মিঠি দেবদারু গাছের তলায় সিমেন্টের বেদীতে বসে বইটা পড়ছে। পিকাই সামনে গিয়ে কানটা ধরে বলে,
-“সরি সরি সরি,
   আর হ’বে না দেরি!”
বলেই হঠাৎ হিহি করে হাসতে শুরু করে দেয়। 

-“কী হ’ল শুনি? অমন খ্যাঁক খ্যাঁক করে হাসছিস কেন? এক তো দেরি করে এলি। তিনদিনের মধ্যে স্কুলের বুক রিভিউ প্রজেক্টটা জমা দিতে হ’বে। আর এদিকে এখনও বই-ই বাছা হ’ল না আমাদের। তোকে পার্টনার করাটাই ভুল হয়েছে আমার!”

-“তুই ‘ঠাকুরমার ঝুলি’-র  রিভিউ করবি? ক্লাস নাইনে পড়ি আমরা, ভুলে গেলি নাকি?”

-“কেন মন্দ কী? ছোটোবেলার সেই বই নিয়েই যদি লিখি?”

-“ধুর! ওসব রাজা রাণি রাক্ষস খোক্কস পড়লে বুদ্ধি ভোঁতা হয়। এই দ্যাখ সাই-ফাই থ্রিলার! কল্পবিজ্ঞান, রহস্য... রিভিউ করলে এর ওপর করব।”

-“জানিস, আমার জাঠতুতো দিদি ফিজিক্সে পি.এইচ.ডি করছে। ওর আলমারিগুলো সবরকমের বইয়ে ঠাসা, ফ্যান্টাসিও। রূপকথা পড়লে বুদ্ধি ভোঁতা হয়নারে হাঁদা! 

-“ইউরেকা! আইডিয়া! 
আমরা এই দু’টো ধারার একটা তুলনামূলক রিভিউ প্রজেক্ট করব। চল, বাড়ি গিয়ে বসি।”

আরও খানিকটা তর্ক আলোচনা করতে করতে, নীল স্পেসশিপ আর লাল পক্ষীরাজ, রাস্তা ধরে পাশাপাশি এগিয়ে চলে। 

••সমাপ্ত••

No comments:

Post a Comment