গল্প: মিষ্টিমুখ

মিষ্টিমুখ
সুস্মিতা কুণ্ডু

মাকালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডারে আজ বড় ভিড় লেগেছে। দোলপূর্ণিমার দিন সবাই হই হুল্লোড় করবে, ভালোমন্দ খাবেদাবে, শেষপাতে মিষ্টি না হলে চলে কি? 

দুই কর্মচারি কেষ্ট আর লাল্টুর সাথে তাই মালিক কালীনাথবাবুও হাত লাগিয়েছেন। চটপট ফরমায়েশ মত মিষ্টি চৌকো বাক্সে ভরে খদ্দেরের হাতে চালান হচ্ছে। দোকানের ক্যাশবাক্সও উপচে পড়ছে। 

ঠিক উল্টোদিকের ফুটপাতে অস্থায়ী ঠিকানা ঘনশ্যাম পাগলার, সঙ্গে অস্থায়ী পোষ্য কালুয়া। পাগলা বিড়বিড় করতে থাকে,

-“ঐ যে দেখছিস গোল গোল সাদা সাদা, ওইটে হ’ল রসগোল্লা। তার পাশেই কেমন খয়েরি রঙের দ্যাখ রসে ভাসছে, ওটা পান্তুয়া। আর আর তার পাশে কালচে পানা ওইটা আমার খুউউব পছন্দের, কালোজাম। তোর মত কালো গায়ের রঙ, কিন্তু তোর থেকে নিগ্ঘাত ভালো খেতে। ওই দেখ হলুদ রঙের কমলাভোগ, কী বড় বড় দেখলি? আর আর ওই যে ফুলের মত দেখতে প্যাঁচানো প্যাঁচানো লাল লাল, ওটা অমিত্তি। বাবা আনত, যখন বাড়ি আসত... জিভে বড় জল আসছে রে কালুয়া, মাটিতে পড়ছে টস টস করে। কেমন মজা দ্যাখ, জলের কোনও রঙ নেই! 

পাগলা বিড়বিড় করে চলে, কালুয়া এক মনে সামনের ঠ্যাং দিয়ে কানের খোস পাঁচড়া চুলকোতে থাকে। 

ওইপারে “মাকালী মিষ্টান্ন ভাণ্ডার”-এর কর্মচারী কেষ্ট, সহকর্মী লাল্টুকে বলে,
-“পাগলাটার খিদে পেয়েছে রে!”
লাল্টু বলে,
-“দাঁড়া এক মিনিট”
তারপর কালীনাথবাবুর কাছে গিয়ে বলে,
-“বলছি যে, কালকের গোটা চারেক বাসী সন্দেশ পড়ে রয়েছে। ওই পাগলাটাকে দিয়ে আসব, যদি বলেন?”

কালীনাথ মুখ তু্লে একবার কেষ্ট আর লাল্টুকে দেখেন, আরেকবার কাঁচের শোকেস ডিঙ্গিয়ে ওপারের ফুটপাতে পাগলাটাকে দেখেন,
-“হুমম, সঙ্গে দু’টো টাটকা গরম রসগোল্লাও নিয়ে যা। এই নামালুম ভিয়েন থেকে। আর হ্যাঁ সিঙাড়ার পুর বেঁচে আছে খানিকটা, কুকুরটাকে...”

কেষ্ট সব গুছিয়ে লাল্টুর হাতে দেয়। মাটির ভাঁড়ে আলুর তরকারি আর শালপাতায় সন্দেশ, সাদা সাদা রসগোল্লার মাঝে কী খেয়ালে নিজের সকালের জলখাবারের ভাগ থেকে একটা লাল লাল অমৃতিও সেজে দিয়েছে। লাল্টুও নিজের প্লেটের কালোজামটা শালপাতার ওপর রেখে, রওনা দেয় ওপারের ফুটপাতের দিকে...

(সমাপ্ত)

No comments:

Post a Comment