Showing posts with label ছবি ও গল্প. Show all posts
Showing posts with label ছবি ও গল্প. Show all posts

মুরগি মা আর তার চার ছা

 



মুরগি মা আর তার চার ছা

সুস্মিতা_কুণ্ডু


এক ছিল সাদা মুরগি মা আর তার ছিল চার চারখানি হলদেরঙা ছা। ইনি মিনি মাইনি আর মো। চারটিতে সারাদিন ইতিউতি ঘুরে বেড়ায়, পোকা খুঁটে খায়। হেথা যায় হোথা যায় সেথা যায়, নাজানি কোথা কোথা যায়। মুরগি মা তো নাজেহাল। সংসারের সব কাজ সারবে নাকি ছানাদের খুঁজে বেড়াবে দিনভর।

শেষমেষ মুরগি মা ছানাদের ডেকে বললে,
-“শোন রে ইনি মিনি মাইনি মো। আজ থেকে তোরা একা একা নয়, আমার সাথেই খাবার খুঁজতে বেরোবি। সবসময় আমার চোখের সামনে সামনে থাকবি। ভুল করেও চোখের আড়াল হোসনেকো।”
ইনি মিনি মাইনি মো তো ইয়া বড় করে ঘাড় হেলায়।
তারপর গান গাইতে গাইতে মায়ের সামনে সামনে হাঁটা দেয়।
“রাম পাম পাম তারা রাম পাম পাম,
ইনি মিনি মাইনি মো আমাদের নাম,
তালে তালে হাঁটি ডান বাম ডান বাম,
সারাদিন করি দেখো কতশত কাম,
রাম পাম পাম তারা রাম পাম পাম।”
গান গাইতে গাইতে চোখ বুজে হাঁটা লাগায় চারজনায়। মুরগি মা-ও গানের তালে পা মিলিয়ে ঘাড় উঁচিয়ে ছানাদের পেছু পেছু চলে।
সবুজ মাঠে যেখানে মা আর তার চার ছা পোকা খুঁটে খেতে গিয়েছিল সেখানে পথের মাঝে পড়ে ছিল একটা পাইপ। না জানি কার বাড়ি থেকে নাকি গাড়ি থেকে খুলে পড়া কালিঝুলি মাখা পাইপ সেটা। গানের তালে বেখেয়ালে ইনি মিনি মাইনি মো সেই পাইপের ভেতরেই ঢুকে হাঁটতে শুরু করল। চোখ বুজে গান গাইছিল কিনা। পাইপের ভেতর দিয়ে হেঁটে হেঁটে শেষমেষ চারটে ছানা পাইপের অন্য মুখটা দিয়ে হেলতেদুলতে বেরিয়ে এল।
হায় রে হায়! ছানাদের গায়ের হলুদ পালক তো বেশটি করে তেলকালিঝুলি মেখে কালো কুচকুচে হয়ে গেছে।
ওদিকে মুরগি মা তো আর ছানাদের মত বহরে ছোটটি নয়। সে পাইপের ভেতর দিয়ে গলে যাওয়ার বদলে ওপর দিয়ে হেঁটে চলে গেল সোজা। খানিক পরে চোখ মেলে চেয়ে দেখে ছানারা কেউ কোথাও নেই, সব ভোঁ ভাঁ। কোথায় গেল ছানাপোনারা? আশেপাশে শুধু অন্য কাদের চারটে কালোরঙা মুরগিছানা চইচই করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এদিক চায় ওদিক চায় সেদিক দেখে।
‘কোঁকর কোঁ! কোঁকর কোঁ
ইনি মিনি মাইনি মো’
ডাক ছাড়ে। বাছাদের দেখা মেলে না।
কী করে মা মুরগি! কী করে!
এদিকে তো চার ছানা খুঁটে খেতে খেতে দেখে মা মুরগি হাপুস নয়নে কেঁদে চলেছে আর ওদের নাম ধরে ডাকছে। ছানারা তো ঘাবড়ে গিয়ে মায়ের পাশেই পা ছড়িয়ে বসে কাঁদতে শুরু করল। মা মুরগি ভাবে হলদে পশমের বলের মত ছানারা কই আর তেলকালি মাখা ছানারা ভাবে মা কেন কাঁদে।
এদিকে ছানাদের চোখের জলে একটু একটু করে তেলকালি ধুয়ে যেতে লাগল। খানিক পরে মা মুরগি কাঁদা থামিয়ে চোখ খুলে দেখে চার ছানা তো পাশেই বসে আছে! কী জাদু রে বাবা!
পাঁচজন মিলে ফের মজায় গান গাইতে চলল খাবার খুঁজতে...
“রাম পাম পাম তারা রাম পাম পাম,
ইনি মিনি মাইনি মো আমাদের নাম।”
(শেষ)
সঙ্গের ছবিটা হয়ত অনেকেরই চেনা। আমাদের ছোটোবেলায় সোভিয়েত রাশিয়ার একটা বই ছিল।
‘ছবিতে ছবিতে গল্প’,
ছবি: নিকোলাই রাদ্‌লভ
কথা: দ. হার্ম্‌স্‌, ন. গের্নেত, ন. দিলাক্‌তর্‌স্কায়া
অনুবাদ: ননী ভৌমিক
এটা সেই বইয়েরই একটা ছবি। প্রতিটা ছবি কথা বলে, একটা গল্প শোনায়। ক্যাপ্টেন নিমোর সঙ্গে বসে বসে গল্প গড়ছিলাম ছবি থেকে। সেটাই লিখলাম।
গল্পটা আবার যুক্তাক্ষর ছাড়া লেখা হয়ে গেছে। ছোটোদের পড়তে সুবিধে হবে আশা করি।
আবার একটা ছবি থেকে গল্প দেব শিগগিরই।

মাছ মা আর তার তিন ছা

 



মাছ মা আর তার তিন ছা

সুস্মিতা কুণ্ডু


একটা ছিল জল টলটল পুকুর। সেই পুকুরে বাস করত এক মাছ মা আর তার তিন ছা। তারা সারাদিন জলের ভেতর ছলছলায় কলকলায়। না না শুধু ওরাই নয়, পুকুরে ছিল আরও কত্তরকমের মাছ, শোল বোল রুই কাতলা, আছে চিংড়ি কাঁকড়া গুগলি শামুক।
সেই জল টলটল পুকুরে ফি রোববার একটা অদ্ভুত কাণ্ড হত। জলের ছাদ থেকে হঠাৎই টপাং করে সুতোয় বাঁধা নানারকম মজাদার খাবার এসে মাছেদের নাকের ডগায় ঝুলত। বোলতার ডিমের ডালনা, কেঁচোর কোর্মা, মধুরুটির মিঠাই। প্রথম প্রথম মাছেরা তো ভারি আহ্লাদে ছুটত সেই খাবার খেতে। কিন্তু... যেই না সেই সুস্বাদু খাবারে কামড় দেওয়া ওমনি হুশশশ! কোথায় যে হারিয়ে যেত সেই মাছ বেচারা, আর তাকে কেউ কোনওদিন খুঁজে পেত না।
এইরকম ভূতুড়ে কাণ্ড দেখে পুকুরের গণ্যিমান্যি মাছেরা বিধান দিলেন, যতই লোভনীয় খাবার আকাশ থেকে খসে পড়ুক কিছুতেই তাতে মুখ দেওয়া চলবে না। উঁহু! ভুল করেও না। সোজা লেজ ঘুরিয়ে পাখনা নেড়ে চলে যেতে হবে সেই তল্লাট থেকে।
কিন্তু মাছ মায়ের তিন ছায়ের বেজায় ইচ্ছে ওই ভালোমন্দ খাবারগুলো একটু চেখে দেখার। দুইবেলা পোকা মাকড়, শ্যাওলাদানা, পাঁক খেয়ে খেয়ে মুখের সোয়াদ এক্কেবারে নষ্ট হয়ে গেছে। এদিকে বাছাদের বায়না শুনে শুনে মাছ মা-ও জেরবার। কোন মায়েরই বা মনে সাধ না হয় একটু বাছাদের শখের জিনিস খাওয়াতে পরাতে!
অনেক ভেবে ভেবে মাছ মা একটা বুদ্ধি বার করল। ছানাদের বললে,
-“শোন বাছারা... আসছে রোববার তোদের মনের ইচ্ছে পূর্ণ হবে।”
ছানারা তো আনন্দে পুকুরের এমাথা থেকে ওমাথা সাঁতরে নিল। তারপর বলল,
-“মা তবে যে সবাই বলে আকাশ থেকে খাবার পড়লে খেতে নেই।”
মা হেসে বললে,
-“একটা মতলব এসেছে মাথায়। যদি সেটায় কাজ হয় তবে বাকি মাছেরাও বিপদে এড়িয়ে ভালোমন্দ খেতে পাবে চাট্টি।”
পরের রোববার মা আর তিন ছা তক্কে তক্কে রইল। যেই না ঝপাৎ করে জলের ছাদ থেকে খাবার বাঁধা সুতোটা পড়ল ওমনি মাছ মা টপাৎ করে হাতপাখনায় তুলে নিল একটা ফাঁকা ঝিনুকের খোল। তারপর সেটাকে সাঁড়াশির মত করে বাগিয়ে ধরে সুতোর মুখের মাছির মালপোয়াটা পেড়ে নিল কপাৎ করে! মাছিটা খসে পড়তে দেখা গেল সুতোর ডগায় একটা বাঁকানো আঁকশি লাগানো। খাবারটা নেওয়ামাত্রই এক ঝটকায় আঁকশি সহ সুতোটা জলের ছাদ ফুঁড়ে কে যেন টেনে নিল এক ঝটকায়।
ও হরি! এই তাহলে মাছেদের অদৃশ্য হওয়ার রহস্য। খাবার খেতে গিয়ে আঁকশি আটকাতো মাছের গলায়। তারপর সুতোয় টান পড়লেই মাছ জলের তলা থেকে অদৃশ্য হয়ে যেত জলের ছাদ ফুঁড়ে। কী ভয়ানক মাছধরা কল রে বাবা!
কিন্তু মা মাছও কম বুদ্ধি ধরে নাকি! এই ঝিনুকসাঁড়াশি দিয়ে দারুণ একটা উপায় করেছে সমস্যা সমাধানের। মাছেদের আর কোনও ক্ষতিই হবে না আর সুস্বাদু খাবারও মিলবে। জব্বর বোকা বানিয়েছে মাছ মা সুতোওয়ালাদের।
তারপর তো মা আর তিন ছা মিলে জমিয়ে টপাংটপ মাছির মালপোয়া খেয়ে ঢেকুর তুলল। ছানারা আহ্লাদে আটখানা নতুন মজাদার খাবার পেয়ে। এবার বাকি মাছেদের সবটা জানাতে হবে, আর বেশ কটা ঝিনুকের খোলও জোগাড় করতে হবে। আসছে রোববার পুকুরের সব মাছ মিলে জমিয়ে ভোজ হবে!
(শেষ)
সঙ্গের ছবিটা হয়ত অনেকেরই চেনা। আমাদের ছোটোবেলায় সোভিয়েত রাশিয়ার একটা ছবির বই ছিল।
‘ছবিতে ছবিতে গল্প’,
নিকোলাই রাদ্‌লভ
এটা সেই বইয়েরই একটা ছবি আর তাই থেকেই গপ্পো গড়লাম ছোটোদের জন্য। আবার একটা ছবি থেকে গল্প দেব শিগগিরই।