তিন বাদুড় আর হুতোমপ্যাঁচা
সুস্মিতা কুণ্ডু
চাঁদনী রাতে গাছের ডালে
তিনটে মজার বাদুড় ঝোলে।
লগবগাবগ হাওয়ায় দোলে।
একটা বাদুড় বেজায় হাসে
একটা বাদুড় শুধুই কাশে,
খিঁক খুকখুক আওয়াজ ভাসে।
সবার ছোটো বাদুড়খানা
রাতদুপুরে গায় যে গানা।
তানা নানা নানা নানা।
তিন বাদুড়ে ঠ্যাংটি তুলে,
রয়েছে মজে মনের ভুলে,
হুতোম প্যাঁচা চোখটি খোলে।
তিন বাদুড়ের উৎপাতে ভাই,
প্যাঁচা বলে “ধুত্তেরি ছাই!
খেয়েদেয়ে কাজ কিছু নাই?”
“থাকবি যদি এই গাছেতে,
চলবে না গান রাতবিরেতে,
হাসি কাশি তোল ঝাঁপিতে।”
“মানবি কথা ঝপাৎ ঝপ,
নইলে ধরে কপাৎ কপ,
গিলব সোজা গপাৎ গপ।”
হুতোম প্যাঁচার হুমকি শুনে,
তিন বাদুড়ের কষ্ট মনে,
রইবেনা ঠাঁই আর এ বনে?
ছোট্ট বাদুড় ছানা মাথায়,
নতুন একটা বুদ্ধি শানায়,
প্যাঁচাটাকে শর্ত জানায়।
“হুতোম প্যাঁচা বাজী ধরো
যদি উল্টে মাথা ঘন্টা বারো,
বাদুড়ঝোলা ঝুলতে পারো।”
“তবেই আমরা তিন বাদুড়ে,
চুপটি করে রইবো পড়ে,
নইলে ভাগো গাছটি ছেড়ে।”
হুতোমপ্যাঁচা বেজায় রাগে
লড়ল বাজী সবার আগে
ঝুলতে গেল উল্টোবাগে।
ঘন্টাখানেক ঝোলার পরে,
বনবনাবন মাথা ঘুরে,
পড়ল প্যাঁচা দমাস করে।
তিন বাদুড়ের মায়া হ’ল
ঝাপটে ডানা বাতাস দিলো,
জল ছিটিয়ে জ্ঞান ফেরালো।
মূর্চ্ছা ভেঙ্গে প্যাঁচা মশাই,
বলল, “ওহে বাদুড় ভাই!
আজ থেকে আর বিবাদ নাই।”
“পেলে কাশি করবেটা কী?
গলা সাধা খারাপ নাকি?
হাসিঠাট্টাই মন্দটা কী?”
তিন বাদুড় আর হুতোমপ্যাঁচা,
চাঁদনী রাতে জুড়ল নাচা,
ঝগড়া ভুলে শিখল বাঁচা।

No comments:
Post a Comment