ছড়া : এক নতুন সিণ্ডারেলার গল্প


এক নতুন সিণ্ডারেলার গল্প
সুস্মিতা কুণ্ডু

এক যে ছিল দুঃখী মেয়ে, নাম সিণ্ডারেলা,
সৎমা আর সৎবোনেরা খাটাত সারাবেলা।

ঘর মোছা, বাসন মাজা, কাচা, রান্না বাড়া,
খেটে খেটে সিণ্ডারেলার পড়ল হাতে কড়া।

বাবাটি তার ধোঁকায় থাকে, মিছে বলে সৎমা,
ভাবেন বুঝি তিনবোনেতে ভালোবাসা কম না। 

একদিন তার বাবা গেলেন বাণিজ্যে দূর দেশে,
এমন সময় রাজার লোকে ঢ্যাঁড়া পেটায় এসে।

যুবরাজের স্বয়ম্বর, নেমন্তন্ন সারা রাজ্য,
যুবরাণি নেবেন বেছে, নয়কো সহজ কাজ যে। 

সিণ্ডারেলার সৎবোনেরা যেই না শুনল খবর,
ঝটপট সব তৈরি হ’ল সেজেগুজে জবর।

সৎমা এসে বলল হেঁকে, “শোন রে সিণ্ডারেলা,
রাজার কুমার জামাই হবে, তুই বিদেয় হ’ এইবেলা।”

তিনজনেতে চলল প্রাসাদ, সিণ্ডারেলা বন্দী,
কেঁদে কেঁদে অঝোর ধারায়, দুঃখী মেয়ের মনটি।

সিণ্ডারেলার কষ্ট দেখে হাজির হলেন পরী,
বললে হেসে, “কাঁদিসনেকো, দেখ, কেমন জাদু করি!”

কুমড়ো হ’ল জুড়িগাড়ি, ইঁদুর কোচোয়ান,
সিণ্ডারেলার অঙ্গে এল দামি নতুন পরিধান।

সুন্দরী যে সিণ্ডারেলা, পায়ে কাঁচের জুতো,
বললে পরী, “রাত বারোটায়, পালাস করে ছুতো”

“জাদু যে সব ভ্যানিশ হবে করলে পরে দেরি,
রাজকন্য নয়কো যে তুই, সবাই পাবে টের-ই।”

সিণ্ডারেলা বড্ড খুশি, গেল রাজার বাড়ি,
রাজপুত্র রাজা রানি, মুগ্ধ রূপে তার-ই।

সৎমা আর দুই বোনেরাও চিনল না কো তাকে,
রেগে মেগে হিংসে করে “রাজার ধরল মনে কাকে!”

নাচা গানা আনন্দেতে কাটল সারাক্ষণ,
ঘড়ি হঠাৎ জানান দিল রাত বারোটা, ঢংঢং!

সিণ্ডারেলার পড়ল মনে পরী মায়ের কথা,
তড়িঘড়ি ছুটল ফেলে কাঁচের জুতো একটা সেথা।

পরের দিন রাজার লোকে ছোটে সবার ঘরে,
কার পায়েতে ঢুকবে জুতো, সবাই দেখবে পরে পরে।

সিণ্ডারেলার সৎমা বোন টের পেল আসল কাণ্ড
চিলেকোঠার ঘরের ভেতর করল তাকে বন্ধ। 

রাজার লোকে জুতো নিয়ে দোরে দোরে ছোটে,
রহস্যময়ী কন্যেখানির হদিশ কখন জোটে!

সৎবোনেরা জুতোর ভেতর গলায় তাদের পা,
যতই করুক কসরৎ, মাপটি মেলে না।

এমন সময় পরীর দয়ায় সিণ্ডারেলা মুক্তি পেল,
আগের দিনে জাদুপোশাক, অঙ্গে পরে সামনে এল।

সবাই চিনল কন্যেটিকে, এলেন রাজা রানি
“রাজপ্রাসাদে থাকবে চলো, হয়ে যুবরাণি!”

“ভালো মন্দ খাবে দাবে যতখুশি সাজবে,
হুকুম তামিল করতে শতেক দাসী বাঁদী থাকবে।”

সিণ্ডারেলা ভাবল মনে, প্রাসাদেও বন্দী র’বে,
লোহার শেকল পাল্টে শুধু সোনার বেড়ি হ’বে। 

বললে মেয়ে জোর গলাতে, “রাজামশাই প্রণাম,
ধৃষ্টতা মোর মাফ করবেন, আমি বিদায় নিলাম।”

“যুবরাণির পদটি নেওয়া, আর আমার নয়কো সাধটি,
বন্দী জীবন চাইনা মোটে, মুক্তির নেব স্বাদটি।”

“নতুন জিনিস জানব কত, নতুন কিছু শিখব,
পরী মা, আমার চাইনে কিছু, জগৎটাকে দেখব!”

(সমাপ্ত)

No comments:

Post a Comment