গল্প: পোলকা নাচন


পোলকা নাচন
সুস্মিতা কুণ্ডু

এক জঙ্গলে এক জাদুকরী বুড়ি থাকত। না না জাদুকরী মানে কিন্তু সে দুষ্টু ডাইনিবুড়িদের মত মোটেও ছিল না। জাদুকরী বুড়ি ভারী ভালো মানুষ ছিল। লোকজনের বিপদে আপদে সাহায্য করত, পশুপাখিদের ভালোবাসত। তবে তার একটা অদ্ভুত অভ্যাস ছিল। বুড়ি তার জাদু দিয়ে সবকিছুতে পোলকা ডট করে দিত। পোলকা ডট কী জিনিস জানো না বুঝি? তাহলে তো তোমাকে বুড়ির জঙ্গলে যেতেই হবে। 

জঙ্গলের ভেতর গিয়ে যেই দেখবে সবুজ সবুজ গাছের পাতা সব গোল্লা গোল্লা, গোল গোল নুড়িঢালা পথের ধারে লাল লাল মাশরুমে সাদা সাদা বুটি, হলুদ ফুলে বেগুনী বুটি, তখনই বুঝবে বুড়ির বাড়ি আর বেশি দূরে নয়কো। বাড়িটাও বড় মজাদার। চিমনীওয়ালা হলুদ কমলা বাড়ির গায়ে বাদামি গোলাপী গোল্লা। বাড়ির মাথায় ওড়ে আকাশী মেঘ, তার গায়েতেও বুড়ি নীল নীল গোল্লা করে দিয়েছে। 

বেশ সুখেই কাটছিল বুড়ির দিন। বুড়ির ধূসর সাদা চুল, বুড়ি গোলাপী নীল ফ্রকে পোলকা ডট এঁকে বনেই খেলে বেড়ায়, ঘুরে ঘুরে নেচে বেড়ায়। আসলে হয়েছে কী, বুড়ির বয়সের কোনও গাছপাথর না থাকলে কী হবে, মনে মনে তো বুড়ি ছোট্ট মেয়েটিই। তাই ওকে দেখতেও বাচ্চা মেয়েদের মত। 

একদিন বুড়ির বাড়িতে এল একটা ম্যাঁও বিল্লি। ম্যাঁও বিল্লির গায়ের রঙ বুড়ির চুলের মতই ধূসর, আর ঝামরি ঝুমরি। বুড়ি ভাবল, 
-‘বেশ রে বেশ! একে তবে আমি পুষ্যি করব। আয় দিকি ম্যাঁও বিল্লি তোর গায়ে চাট্টি কালো গোল্লা করে দিই জাদু করে।”
ম্যাঁও বিল্লি রেগে ঠোঁট ফুলিয়ে বলল,
-“ওটি হচ্ছেনেকো! আমার গায়ে ওইসব পোলকা ডট মোলকা ডট করা চলবেনেকো। তাহলে আমি এক লাফে পগার পার হয়ে যাব।”
বুড়ি বলল,
-“বটে! তবে আয় তোর পায়ে পোলকা নাচন জাদু করে দিই।”
ম্যাঁও বলে,
-“তা তুমি করতে পারো, শুধু আমায় জ্বালাতন করবেনাকো আর রোজ সকাল বিকেল দুধ ভাত আলুসেদ্ধ খেতে দেবে।”

বুড়ি হেসে বলল,
-“তাই হবে গো তাই!”
এই বলে ম্যাঁও বিল্লির পায়ে দিল পোলকা নাচন জাদু করে। বিল্লি যেখানে গিয়ে পোলকা নাচন শুরু করে লেজ দুলিয়ে বোঁ বোঁ করে ঘুরে ঘুরে ওমনি সেখানে বিল্লির পায়ের ছাপে নানা রঙের গোল্লা ফুটে ওঠে। সে ভারী মজাদার ব্যাপার। বিল্লিও খুব মজা পেল। আর সব লোক মিলে বিল্লির নতুন নাম দিল ‘পোলকা বিল্লি’।

আর আমাদের জাদুকরী বুড়িও খুব খুশি হ’ল। তার পুষ্যি বিল্লির গায়ে পোলকা ডট না থাকলে কী হবে, নামে তো পোলকা রইল। ‘আহা! বাহা! কী মজা!’ এই বলে বুড়ি আর বিল্লি হাত ধরে পোলকা নাচন শুরু করে দিল। 

(সমাপ্ত) 

No comments:

Post a Comment