সুস্মিতা কুণ্ডু
তার নাম হ’ল গিয়ে পাঁচকমলি বেগনেরাণী। এমনধারা নাম কেন শুধোও যদি তবে বলব, তার গায়ের রঙটা হ’ল বেগুনের মত বেগুনী আর রয়েছে পাঁচ পাঁচটা কমলা রঙের ঝুমকো। না না কানে পরার ঝুমকো দুল নয় রে বাবা, একি মানুষের ছা নাকি? এ তো ফুল! একটা দুষ্টু মিষ্টি হাসিখুশি ফুল। পুকুরপাড়ে শনশনানি হাওয়ায় মাথা দোলায়। জলের পেটে আকাশের, মেঘের ছায়া দেখে খিলখিলিয়ে হাসে। কিন্তু সবকিছুর মধ্যেও একটা কষ্ট বড্ড মনে বাজে পাঁচকমলির। ওর দু’টো সবজে পাতা আছে, কিন্তু পা নেই। পাপড়ি আছে, ডানা নেই। চলে, ফিরে, উড়ে, এদিক সেদিক যেতে পারেনা। এদিকে পাঁচকমলির বড় সাধ এই পুকুরপাড়ের বাইরের দুনিয়াটা কেমন সেটা জানার। ও শুধু ভাবে আর দোলে, দোলে আর ভাবে।
এমন সময় এক দিন, পাঁচকমলির দেখা হ’ল বাহারেপাখা ঝিলিমিলির সাথে। বাহারেপাখা হল গিয়ে একটা ঝটফটে ফড়ফড়ানি প্রজাপতি। চারিদিকে ওর বাহারী পাখা মেলে উড়ে বেড়ায়, খুশি ছড়ায় মুঠোমুঠো। তো হয়েছেটা কী, বাহারেপাখাকে একটা ইয়াব্বড় বাজপাখি তাড়া করেছে। সে বেচারা তো প্রাণপনে উড়তে উড়তে এসে পৌঁছল পাঁচকমলির পুকুরপাড়ে। বাহারেপাখার বিপদ দেখে পাঁচকমলি হেঁকে বলল,
-“তুমি শিগগির এসে আমার পাপড়ির ভেতর ঢুকে পড়ো, আমি তোমায় লুকিয়ে রাখব বাজপাখির থেকে।”
বাহারেপাখা তাই করল, পাঁচকমলি তার বেগনে পাপড়ি মুড়ে লুকিয়ে রাখল বাহারেপাখাকে। আর বাজপাখি তো খুঁজে খুঁজে ফিরে গেল, বোকা বনে গিয়ে।
তখন বাহারেপাখা বেরিয়ে এসে পাঁচকমলিকে বলল,
-“থ্যাংক ইউ সোওও মাচ। তুমি আমার প্রাণ বাঁচালে, বিনিময়ে আমি কী করতে পারি বলো?”
পাঁচকমলি বলল,
-“আমার কিছু চাইনে গো। তুমি তো বাহারি পাখা মেলে হেথা হোথা যাও। আমি তো পুকুরপাড় ছাড়া আর কিছুই দেখতে পাইনে। আমাকে দেশবিদেশের গপ্পো শোনাবে?”
বাহারেপাখা তো ভারী খুশি হয়ে বলল,
-“নিশ্চয়ই, নিশ্চয়ই শোনাবো। আজ থেকে যে আমরা বন্ধু হলুম।”
সেই থেকে পাঁচকমলি বেগনেরাণী ফুল আর বাহারেপাখা ঝিলিমিলি প্রজাপতি হ’ল প্রাণের বন্ধু। আর তারা সক্কলকে বলল,
-“হ্যাপ্পি ফ্রেন্ডশিপ ডে”
(সমাপ্ত)

No comments:
Post a Comment