Showing posts with label ছড়া. Show all posts
Showing posts with label ছড়া. Show all posts

ছড়া : লাগ ভেলকি

#লাগ_ভেলকি
#সুস্মিতা_কুণ্ডু



সবজে ঘাসে 
ফুলের বাসে
রাংতা মোড়া আকাশ পানে,

ফড়িং নাচে
পিঁপড়ে হাঁচে
চাপবি তো আয় উড়ন যানে।

সাঁই ফটাফট
কান কটাকট
চক্ষু মুদে প্যাঁচা ঢোলে,

দাঁত কপাটি
লাগাও চাঁটি
বেসুরো তাল কাঠের খোলে।

গাছের মাথায়
ব্যাঙের ছাতায়
রোদ মাখানো হলুদ বাটা,

নদীর পাড়ে
ছপাৎ দাঁড়ে
নৌকো দোলে জোয়ার ভাঁটা।

সেই নগরে
ফুল টগরে
রাস্তাঘাটে বিছিয়ে সাদা,

চলছে মেলা
হাজার খেলা
লাড্ডু পাঁপড় পেটটি নাদা।

হেঁইয়ো করে 
চলছে জোরে
হুনহুনা সব পালকি দোলা,

পাগলা সাধু
জমায় জাদু
ভেলকি বোঝাই চটের ঝোলা। 

চরকি বাজি
আলোর সাজি
মাঝ আকাশে ফানুস ছোঁড়ে,

থাকলে ডানা 
নেইকো মানা
হাউই চেপে যাক না উড়ে।

(সমাপ্ত)

কিশলয় ব্লগে প্রকাশিত। 

ছবি: ছানামশাই!

ছড়া : শেপটাউন ফানটাউন





পুকুম্যান নানারকম নানারঙের শেপ আঁকতে বড় ভালোবাসেন। তাঁর এই আঁকা দেখে ছড়াখানি আমি লিখেছিনু, বেরিয়েছিল ‘পরবাস’ ওয়েবজিনে।

#শেপটাউন_ফানটাউন
#সুস্মিতা_কুণ্ডু

শেপটাউনে চলছে রে ভাই হুলুস্থুলু কাণ্ড!
পাঁচখানি শেপ ঝগড়াঝাটি করছে যে প্রচণ্ড।

লাল ট্র্যাঙ্গল বলল হেঁকে, ‘আমি সবার সেরা!’
‘কেমন রাঙা মুখটি আমার, মিছেই লড়িস তোরা!’

আজ থেকে এই শেপটাউনের হ’ব আমি রাজা,
আর যত শেপ আছে হেথায়, সবাই আমার প্রজা।

বেগনে গোলক রেগে বলে ‘মানব না তোর কথা,’
‘আমার মতন দেখতে যে হয় সব মানুষের মাথা।’

‘কে না জানে মাথার মাঝেই সব বুদ্ধি থাকে,
আমি ছাড়া শেপের রাজা বলবে সবাই কাকে?’

এমন সময় বাঁকা হাসি হাসল জোরে রম্বাস
‘অনেক হ’ল এবার তোরা থাম তো দেখি, ব্যস!’

বর্ডারখানা নীলচে আমার, কমলা রঙে ঢাকা,
তোদের মত একটি রঙেই নই তো আমি আঁকা।

এই না শুনে সবুজ স্কোয়ার খিঁক খিঁকিয়ে হাসে,
‘দাঁড়া দেখি সোজা হয়ে একটু আমার পাশে!’

‘বাঁকাচোরা রাজা হবে, হেসেই আমি মলুম,
বর্গক্ষেত্র হেলিয়ে নিলেই, রম্বাস হয়ে গেলুম।’

বেজায় রকম গোলমালেতে চটল সেমিসার্কল ,
গর্জে বলে, ‘থামো সবাই, বন্ধ কর শোরগোল!’

‘আমার নামটি অর্ধচন্দ্র, রেগেই হলাম নীল,
ঝগড়াঝাটি না থামালে পড়বে পিঠে কিল’

“এবার থেকে শেপটাউনের হ’লাম আমি শেরিফ,
মিলেমিশে থাকব হেসে, করবে সবাই তারিফ।”

(সমাপ্ত)

https://www.parabaas.com/PB71/LEKHA/cp_kSusmita71.shtml

ছড়া : ডিড্ডিমগড়ের হাম্পটি

ডিড্ডিমগড়ের হাম্পটি
সুস্মিতা কুণ্ডু

এক যে ছিল মজার দেশ, নামটা ডিড্ডিমগড়
সেইখানেতে বাস করে কারা, কাদেরই বা ঘর?

বলছি বলছি একটু রোসো, তাড়ার আছে কী?
ডিমের দেশের গল্প এবার, কইতে এসেছি।

আজব দেশের রাজা রাণী, কোটাল এবং মন্ত্রী,
এক একটা যে আস্ত ডিম্ব, প্রজা মালী সান্ত্রী!

সবাই ডিম গোটা গোটা, আছে চোখ নাক কান 
পটর পটর কয় যে কথা, আছে মুখ একখান  

ইয়া বড় গড়গড়ে ডিম, লিকলিকে হাত পা
দেশটা জুড়ে চলে বেড়ায়, ‘গড়গড়গড় ধাঁ’

ডিড্ডিমগড়ে ভারী মজা, বাঁধনহারা ভাই 
‘সেদ্ধ খাব, ভেজে খাব’, হুমকি সেথা নাই?

এমন দেশে একটা শুধু, নিয়ম লেখা আইনে
আর যা করো লাফিওনা কেউ, বাঁয়ে এবং ডাইনে।

হাঁটো ঘোরো চেঁচাও গাও, যতখুশি করা মজা
দড়াম করে লাফাও যদি, মিলবে চরম সাজা। 

দুম দুমা দুম মারামারি, ধাঁই ধপাধপ ধাক্কা
এসব যদি ভুলেও করো, মারবে সেপাই গাঁট্টা

ডিড্ডিমগড়ের ডিমেরা সব, বাধ্য প্রজা ভারী
খোলসগুলো ভাঙার ভয়ে, খেলার সাথে আড়ি। 

কিন্তু ছিল একটি যে ডিম, ভারী মজার নামটি
সবাই তাকে বেজায় বকে, ডাকে ‘দুষ্টু হাম্পটি’!

দুপুরবেলায় সবাই যখন, ঘুমোয় নাকটি ডেকে
হাম্পটি পালায় দরজা খুলে, ধরবে কে আর তাকে। 

রাজপ্রাসাদের মস্ত পাঁচিল, হাম্পটি যে যায় সেথায়
দড়ি ধরে দেওয়াল বেয়ে, বসল চড়ে মাথায়। 

ডিগবাজি খায় ঐ উঁচুতে, লাফায় দাড়ুম দুড়ুম
তাই না দেখে জানলা থেকে, রাজার আক্কেল গুড়ুম। 

হাম্পটি নাচে ধেই ধেই ধেই, পাঁচিল কাঁপে থরথর
শ্যাওলা ছিল ইঁটের মাথায়, ‘গেল গেল ধর ধর!’

পড়ল হাম্পটি পা পিছলে, ‘সড়াৎ! ধপাস! ফট্!’
যেই না ঠেকল মাটিতে গা, ভাঙল খোলস ‘মট্!’

সাদা মতন খোলসখানায়, ইয়াব্বড় হ’ল গর্ত
রাজা চেঁচান প্রাসাদ থেকে, “শিগ্গির ওকে ধর তো।”

ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে, রাজার সৈন্য ছোটে 
এমনধারা খবর শুনে, মেলা যে লোক জোটে।

আলতো করে হাম্পটিকে সব, তুলল গাড়ির ভেতর
জুড়িগাড়ি হাঁকিয়ে ঘোড়া, ছুটল প্রাসাদ চত্বর।

বদ্যি এল হাকিম এল, এল গুণীন তান্ত্রিক
কেউ পারেনা জুড়তে তবু, হাম্পটিকে যে ঠিকঠিক।

ভাবনা বেজায় রাজার মাথায়, “কী করি, কী করি!
হাম্পটির ওই ফাটা মাথা, কী দিয়ে যে জুড়ি!”

“তাইতো বলি সবটি সময়, বড়দের কথা মানবে
নইলে ‘পরে হাম্পটির মত, বিপদে পড়ে কাঁদবে।”

কেঁদে কেঁদে হাম্পটি বলে, “ভুল হবে না আর।
“লক্ষ্মী হব শান্ত রব, মাফ করে দাও এইবার।”

রাজা তখন নিজে হাতে, রত্নকোষটি খুলে
স্বর্ণকারকে বললেন ডেকে, “যা লাগে নাও তুলে।”

“গলিয়ে সোনা ছাঁচ বানিয়ে, জোড়ো হাম্পটির মাথা”
ঘাড় নাড়িয়ে স্যাঁকরামশাই, রাজাকে দিল কথা।

সাদা খোলসে সোনা দিয়ে, বুজল মাথার ফুটো
হাম্পটি হ’ল বেজায় খুশি, প্রণাম ঠোকে দু’টো।

“রাজামশাই এবার থেকে, হ’ব আমি শান্ত
নইলে এমন বিপদ হবে, কে বা সেটা জানত”

ডিড্ডিমগড়ে খুশির জোয়ার, ‘রাজামশাইয়ের জয়!’
হাম্পটি এবং ডিমেরা সব, মনের সুখেই রয়।

(“Humpty Dumpty sat on a wall...” নার্সারি রাইমটির ছায়া অবলম্বনে।)

ছড়া : পেটুক শুঁয়োপোকা


পেটুক শুঁয়োপোকা
সুস্মিতা কুণ্ডু

সবুজ সবুজ পাতার ‘পরে একটা ডিম সাদা,
মিষ্টি চুমোয় ঘুম ভাঙালো আকাশের ঐ চাঁদা।

রবিবারে সুয্যিমামা বলল তাকে ‘হ্যালো!’
অমনি ডিমের ভেতর থেকে শুঁয়ো বাইরে এল।

বেরিয়ে বলে ‘বড্ড খিদে, জিভেতে জলে আসে’,
লটরপটর চলল শুঁয়ো খাওয়ারের তল্লাশে।

সোমবার খেল একটি আপেল টুকটুকে লাল,
এঁকে বেঁকে শুঁয়ো চলে, কেমন মজার চাল।

মঙ্গলবার সকাল বেলায় পেল খিদে জব্বর,
দুইখান খেল ন্যাশপাতি, চিবিয়ে কচরমচর।

বুধবারেতে তবুও পেটে দৌড় লাগায় ছুঁচো,
খান তিনেক পেয়ারা খেল করে কুঁচো কুঁচো।

বৃহস্পতি বারেতে ভাই খিদেয় পাকায় নাড়ি,
চার চারটে কলা খেয়ে হ’ল আরাম ভারী।

শুক্রবারে তবুও পেটে জ্বলছে আগুন হুহু,
পাঁচটা কমলালেবুর কমে ভরবেনা পেট, উঁহু।

পাঁচদিন ধরে খেয়েও শুঁয়ো বলে ‘আরও চাই’।
শনিবারে হ’ল মহাভোজ, এস মেনুটা শোনাই।

একখানা কাপকেক আর আইসক্রিম কোণ,
এই দুইখান দিয়ে শুঁয়ো করলো উদ্বোধন।

তারপরেতে পড়ল পাতে ছানাটা একদলা,
তরমুজের রইল পড়ে শুধু বীজ আর খোলা। 

সসেজ খেয়ে তুলল ঢেঁকুর তৃপ্তি করে বেজায়,
জানত না কো এত্ত মজা ললিপপটি চাটায়।

শেষপাতেতে রইল চটপটা আমের আচার
ক্যাডবেরিটা খেয়ে শুঁয়োর ইচ্ছে হ’ল নাচার। 

নাচতে গিয়ে পেটটা ধরে শুঁয়ো গড়ায় ধুলোয়
“উহ্ আহ্! মলুম গেলুম! আমি পেটের ব্যথায়।”

ছ’দিন ধরে ভোজটি খেয়ে এবার কেমন সাজা,
রবিবার ফের চিবিয়ে খেল একটি পাতা তাজা।

সবুজ পাতা খেয়ে গায়েব পেটেব্যথা বেবাক,
নিজের পানে চেয়ে শুঁয়ো হ’ল ভারী অবাক।

সপ্তাহকাল খেয়ে শুঁয়ো বেজায় হয়েছে মোটা,
নিজের গায়ের চারিধারে বুনল বাড়ি গোটা।

রেশম সুতোয় বোনা বাসা ‘কোকুন’ যে তার নাম,
ওরই ভেতর হপ্তাদুয়েক শুঁয়োর চলবে যত কাম।

দিন পনেরো কেটে গেল, সবাই অপেক্ষাতে বসে, 
এই বুঝি শুঁয়ো বাইরে আসে, গালভর্তি হেসে।

হঠাৎ জাদুর কাণ্ড দেখে, অবাক সবাই অতি!
কোকুন কেটে বেরিয়ে এল মস্ত প্রজাপতি। 

ডানায় যে তার রামধনু রঙ ঝিকিমিকি করে।
প্রকৃতিমায়ের জাদুতে শুঁয়ো, প্রজাপতিরূপ ধরে। 


(সমাপ্ত)

“The very hungry caterpillar” (by Eric Carle)
-এর ছায়া অবলম্বনে। 

ছড়া : দুষ্টু খুকু


দুষ্টু খুকু
সুস্মিতা কুণ্ডু


দুষ্টু খুকু ভোরের বেলায়
সুয্যিমামার সাথী,
চোখ রগড়ে উঠে বসে
যেই না পোহায় রাতি।

দুষ্টু খুকু সকাল বেলায়
বই খাতাটি ফেলে,
বাগানজুড়ে ছুটোছুটি
বেড়ায় শুধু খেলে।

দুষ্টু খুকু দুপুর বেলায়
দে’ ছুট মাঠের পার,
মা একটু তন্দ্রা গেলেই
ধরবে কে গো আর।

দুষ্টু খুকু বিকেল বেলায়
পাড়তে গিয়ে আম,
লগ বগা বগ গাছ বাইতে
ঝরল মাথার ঘাম।

দুষ্টু খুকু সন্ধে বেলায়
মায়ের পাশে বসে,
টপ টপা টপ লেখে জোখে
জটিল আঁকটি কষে।

দুষ্টু খুকু রাতের বেলায়
শুনে ধুপধাপ শব্দ,
খাটের ওপর একলা বসে
হয়েছে ভারী জব্দ।

দুষ্টু খুকু নয়কো ভীতু
চুপিচুপি খুলে দোর,
বাইরে এসে দেখল শেষে
ঘরে ঢুকেছে চোর।

দুষ্টু খুকু লুকিয়ে দেখে
চোর ব্যাটাদের কাণ্ড,
একটা চোর বেজায় ঢ্যাঙা
একটা মুশকো ষণ্ড।

দুষ্টু খুকু পা টিপটিপ
চোরের পিছে ধায়,
চোর দুখানা কপাট খুলে
ঠাকুরঘরে  যায়।

দুষ্টু খুকু পেছন থেকে
শেকলটি দেয় এঁটে,
দুই বাবাজী আটকা পড়ে
ঢ্যাঙা আর বেঁটে।

দুষ্টু খুকু জোরসে ডাকে
“শিগ্গিরি সব এসো!
চোর ধরেছি ঠাকুরঘরে
পুলিশ ডাকি রোসো।”

দুষ্টু খুকুর সাহস দেখে
অবাক পাড়ার লোক
ধন্য ধন্য করল সবাই
খুকুর জয় হোক। 

মন্ত্রী এসে মেডেল দিল
মিছিল সারা গাঁয়ে,
সাবাস খুকু সাবাস সোনা
ধন্যি দস্যি মেয়ে।


••(ইচ্ছামতীতে প্রকাশিত)••

ছড়া : সাঁকো


সাঁকো
সুস্মিতা কুণ্ডু

অনেকদিন আগের কথা, সেথায় ছিল দুটি গ্রাম
লালপুর আর নীলপুর, এই ছিল তাদের নাম।
লালপুরে থাকে ছোট্ট ভুতু, নীলপুরেতে তুতু
দুইজনাতে দোস্তি ভারী, নয়কো তারা ভীতু।

রোজ বিকেলে মিলত দুজন, দুই গাঁয়েরই প্রান্তে
যেথায় বইছে ছোট্ট নদী, নামটি কি চাও জানতে?
নামেই নদী পাগলাঝোরা, দেখতে সরু নালা 
সাঁকো সেতুর নেইকো বালাই, হেঁটেই যে পথচলা।

গাঁযের যত ছেলে বুড়ো, কিংবা গরুর গাড়ি
পায়ে হেঁটেই টপকে নদী, পৌঁছে যেত বাড়ি।
এমনি করেই যেত কেটে বছর বছর মজায়
কিন্তু আকাশ ভেঙে এল বৃষ্টি বাদল বেজায়।

সেই বছরে বর্ষারাণী হলেন ভারী ক্ষিপ্ত
কেউ জানেনা কী করলে হবেন তিনি তৃপ্ত। 
খালবিল সব উপচে গেল, নদী ছাপায় দু’কূল
একখানিও নেই যে সাঁকো, মস্ত হ’ল ভুল। 

তুতু-ভুতুর বন্ধ খেলা,যে যার গ্রামে বন্দী
নদীর তীরে সখার কাছে পড়েই যে রয় মনটি। 
অনেক কান্নাকাটির শেষে বুদ্ধিতে দেয় ধার
যে যার গ্রামের রাজার কাছে চলল নিয়ে আবদার।

ভুতু গেল লালপুররাজ চূণীলালের কাছে
বলল, “রাজা, ওইপারেতে বন্ধু যে মোর আছে।
কিছু উপায় করো তুমি, নদীতে দাও বাঁধ
তোমার রাজ্যের প্রজা মোরা, এইটে মোদের সাধ।”

চূণীরাজা সবটা শুনে, বললে “ঠিক হায়, আচ্ছা!
পাগলাঝোরায় বাঁধব সেতু, দিলুম কথা সাচ্চা।”
দশজন লোক, একটা হাতি, দুটো ঘোড়ার গাড়ি
বস্তা বস্তা খড় কাদা, বাঁশ আনল কাঁড়িকাঁড়ি। 

বাঁশ আর খড়ের কাঠামো, তাইতে লেপা মাটি
শুকনো হলেই চলবে লোকে, ফটফটিয়ে চটি। 
যেমন ভাবা তেমন কাজ, হয় কবে এ দুনিয়ায়?
ঝমঝমিয়ে নামল বৃষ্টি, কাঁচা সাঁকো গলল হায়!

খবর গেল নীলপুরেতে, বললে রাজা নীলকান্ত
“এমন কাণ্ড হবেই হবে, সবাই যে সেটা জানত”
তুতু তখন বললে কেঁদে, “ও রাজামশাই মহান!
একটা কিছু উপায় করুন, সাঁকোটিকে বাঁচান!”

নীলকান্ত মুচকি হাসে, “কুছ পরোয়া নাই,
চূণীব্যাটার যা মুরোদে নেই, করব আমি তাই!”
রাজমিস্ত্রি তলব হল, চুন সুরকি ইঁটও এল
‘হাঁইসা’ বলে বিশ মিস্ত্রি, পাকা সাঁকো গড়তে গেল।

দুমদাম ধুপধাপ ঠকঠাক, ইঁটের ওপর ইঁটের সারি
সাঁকো এবার হ’ল জব্বর, টপকে যে যায় জুড়িগাড়ি।
একদিন যায়, দু’দিন যায়, হপ্তা পেরোয় তরতরিয়ে
হঠাৎ করে এক দুপুরে, ভাঙল সাঁকো হুড়মুড়িয়ে। 

নদীর তলায় পলিমাটি, নরম নরম আলতুসি
তার ওপর সেতু বাঁধা, ওজন যে তার বড্ড বেশি।
বড় বড় ওই থামদুটো, নদীর গর্ভে গেল ঢুকে
পাকা সাঁকোর জীবদ্দশা, এক নিমেষে গেল চুকে। 

নীলকান্ত বেজায় দুঃখী, চূণীলাল হাসে ‘হা হা হা’
“লালপুর যা পারল নাকো, নীলপুর কেমনে পারবে তা!”
এদিকে দুই বন্ধু আহা! তুতু-ভুতু খেলুড়ের দল
মনের দুঃখে নদীর ধারে, ফেলছে বসে চোখের জল। 

তাই না দেখে দুই রাজা, মনের ভেতর কষ্ট পায়
দু’জন মিলে ভাবল বসে, এবারে কী করা যায়? 
কোষাগারের সোনা রুপো, দিলেন দু’জন উজাড় করে
তুতু-ভুতু ফের খেলবে, রত্নসাঁকো দেবেন গড়ে।  

আর দেরি নয় এত্তটুকু, যেমন ভাবা তেমনি কাজ
গড়ল সেতু চোখজুড়োনো, রুপোর অঙ্গ সোনার সাজ।
দলে দলে মানুষ এল, দেখতে আজব সেতু
বসল লেঠেল চৌকিদার, পাহারা দেওয়ার হেতু।

রাতের বেলায় ঢুলল কষে, রাজার একশ পাহারাদার
চোর ডাকাতে ভাঙল সেতু, সোনা নিয়ে পগারপার! 
মাথায় হাত পড়ল সবার, দুই রাজা আর গ্রামের লোক
তুতু-ভুতু বুদ্ধি দিল, বর্ষারাণীর যজ্ঞ হোক। 

শুনে সবার প্রার্থনা, হলেন তুষ্ট বর্ষারাণী
তুতু-ভুতুর কাতর ডাকে, দিলেন তিনি অভয়বাণী।
নদীর পাড়ের গাছগুলো সব, লকলকিয়ে বাড়ে
দুকূল থেকে ডালপালা মেলে, বিশাল সেতু গড়ে। 

দুইপাড়ের যত গাছের সারি, জুড়ে বানায় সাঁকো
হাজার জল আর ঝড়ে, মোটেও টলবে নাকো। 
আনন্দেতে আটখানা হয়, তুতু-ভুতু আর সবাই
পাগলাঝোরাই দুই পারেতে, খুশির বসত সদাই। 


(‘লন্ডন ব্রিজ ইজ ফলিং ডাউন’-ছড়াটি থেকে অনুপ্রাণিত।)

ছড়া : ম্যাঁওপুষিদের দস্তানা


ম্যাঁওপুষিদের দস্তানা
সুস্মিতা কুণ্ডু

তিনটে ছোট্ট ম্যাঁওপুষি
দস্তানা পরে খুব খুশি,
লাল নীল আর বাদামী
মা কিনেছে খুব দামী।

হাত ঘুরিয়ে দেখছে তাই
এমনটি আর কারোর নাই,
নেচে নেচে পার্কে গেল
দস্তানাজোড়া ভুলে এল।

বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি
মা-তো রেগে নাড়েন ঝুঁটি
“না পেলে খুঁজে দস্তানা
 মাছভাজাটিও মিলবে না”

মনের দুঃখে তিনটি ছানা
খোঁজে চারিদিকে দস্তানা,
ঘরে, বাগানে, দুয়ারে, ছাদে। 
ভেউ ভেউ করে শুধু কাঁদে।

অবশেষে মেলে জোড়াখান
আনন্দেতে ধরল যে গান 
“ও মা গো মা, মিঁয়াও মিঁয়াও 
মোদের নাচন দেখে যাও।”

মা ছুটে আসে কাজ ফেলে 
মাছটা সবে ছেড়েছে তেলে
বললে তাদের “একটু রোসো
মাছভাজা দিই, খেতে বোসো।”

গরম গরম মাছভাজাটি
নাদা হ’ল খেয়ে পেটটি।
চেয়ে দেখে কী সর্বনাশ
দস্তানাময় মাছের আঁশ। 

নোংরা হল দস্তানা যে
মা তো বেজায় রেগে গেছে। 
সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে
দস্তানাগুলো কাচল কষে। 

সপসপে করে ধুয়ে জলে
কুড়মুড়ে রোদে দিল মেলে,
দস্তানা হ’ল আগের মত 
তাই দেখে মা খুশি কত।

হাত বুলিয়ে দেয় মাথায়
চল না দেখি মায়ে ছানায়,
ধরব ইঁদুর নাদুস নুদুস
রেঁধেই খাব হারুস হুপুস। 

তিনছানা আর মা ছোটে 
ধরল ইঁদুর একটা মোটে,
কালো কালো চোখের মণি
তার ধূসর বর্ণ গাত্রখানি

ছানাদের মন কেমন কেমন 
আহা কেমন হোঁদলবরণ
পিটপিট করে দ্যাখে চেয়ে
ওকে আমরা নেব খেয়ে?!!

মা, মা গো মা দোহাই তোমার
ইঁদুর খাবার চাইব না আর,
আমরা ওকে পুষব বরং
নামটি দেব পুটুসচরণ। 

সবাই মিলে  মজায় মাতে
চার বেড়াল আর ইঁদুর সাথে,
নয়কো ওরা শত্রু যে আর
বন্ধু হয়েই থাকবে সবার। 

(“The three little kittens” রাইমটির ছায়া অবলম্বনে লেখা ছড়াটি)