মজারুর মজার বুদ্ধি

 

মজারুর মজার বুদ্ধি
সুস্মিতা কুণ্ডু


এক ছিল সজারু। তার কী নাম ছিল জানো? মজারু। তবে তার নাম মজারু হলে কী হবে সে মোট্টে মজা করার সুযোগ পেত না। আসলে সজারুদের গায়ে অনেক খোঁচা খোঁচা কাঁটা হয় কিনা, তাই যার সাথেই মজারু খেলতে যায় সেই ভয় পেয়ে পালায়। কেউ ওর আশেপাশে ঘেঁসে না। ধরাধরি খেলতে গেলে যদি একে অপরকে ছুঁতেই না পারো, খেলবেটা কী করে শুনি? কুমির ডাঙ্গা খেলতে গেলেও সেই একই বিপদ। সত্যিই তো খুব মুশকিল একসাথে খেলাধুলো করা।
মজারুর ভারি মন খারাপ।
সেদিন বিকেলে তাই একা একাই মাঠের এক কোণে ঝোপের আড়ে চুপটি করে বসেছিল। বাকিরা খেলছে, মজারু আনমনা। এমন সময় আকাশ ধীরে ধীরে কালো হয়ে এল। টিপ টপ টিপ টপ করে এক দু-ফোঁটা বৃষ্টি পড়তে শুরু করল। সবাই মাঠ ছেড়ে যে যার বাসায়, গাছের কোটরে, মাটির গর্তে, ছুটে পালাল। এদিকে মজারুর তো খেয়ালই নেই শুরুতে। যতক্ষণে নজর করল ততক্ষণে ঝমঝমিয়ে জল ঝরছে আকাশের গা থেকে।
কী করে কী করে!
একটা বড়সড় গাছের পাতা তুলে চাপা দিল মাথায় গায়ে। খানিক পরে ‘কড় ক্কড় ক্কড়াৎ’! যেই না মেঘ গর্জাল চমকে উঠে মজারুরও গায়ের কাঁটাগুলোও খাড়া খাড়া হয়ে গেল। ওমনি গায়ের ওপরের পাতাটা ছিঁড়েখুঁড়ে একশা। মজারু ঝটপট অন্য একটা পাতা নিয়ে মাথায় আড়াল দিল। একটু পরেই ফের ‘ক্কড় ক্কড়াৎ’, আর পাতাও ফের ‘ফড় ফড়াৎ’।
বৃষ্টির জলে ভিজে হাপুশুটি হলেও, এই দেখে হঠাৎই মজারুর মাথায় একটা মজার বুদ্ধি গজাল।
পরের দিন বিকেলে যখন সব খেলুড়ে মাঠে খেলতে হাজির মজারুও উপস্থিত হল সেথায়। সবাই হইহই করে উঠল,
-“আমরা বাপু তোমায় দলে নিতে পারব না। তাহলে খেলাধুলো ছেড়ে গায়ে ব্যাণ্ডেজ বেঁধে কোটরেই বসে থাকতে হবে আমাদের।”
মজারু একটুও না ঘাবড়ে বললে,
-“আমি এমন একটা খেলার বুদ্ধি করেছি যে তোমরাই আমায় দলে নেওয়ার জন্য টানাটানি করবে।”
সবার একটু কৌতূহল হল, তারা বললে,
-“কী এমন খেলা শুনি?”
মজারু বলল,
-“চলো দেখি গাছ থেকে ফল পেড়ে লোফালুফি খেলি। তোমরা ছোঁড়ো আমি লুফে নেব। যদি একটাও ফলও মাটিতে পড়ে তোমরা জিতবে।”
বন্ধুরা বলল,
-“বটে! তোর এইটুকুটুকু হাতদুটো দিয়ে সব লুফতে পারবি? চল তো দেখি!”
তারপর যে কী মজার কাণ্ড হল কী বলি তোমাদের। সকলে মিলে যতই ফল ছোঁড়ে, মজারু হাতে করে লোফার বদলে লাফিয়েঝাঁপিয়ে গায়ের কাঁটাগুলো সোজা করে সেগুলো গেঁথে নেয়। এক এক করে মজারুর গোটা গায়ের কাঁটা পেয়ারা, জাম, জামরুল, লিচু, কলা সবেতে ভরে উঠল। একটা ফলও মাটিতে পড়ল না।
সবাই তো নতুন রকমের এই মজার খেলার আনন্দে লুটোপুটি! শুধু কি তাই? খেলা শেষ হতে মজারুর পিঠের কাঁটা থেকে একটা একটা করে ফল খুলে নিয়ে খাওয়াতেও কম মজা নাকি?
মজারু মিটমিট করে হেসে বললে,
-“কী আমি জিতলুম তো?”
বন্ধুরা আর কী করে উত্তর দেয়? সবাই যে কচরমচর করে মুখভর্তি ফল চিবোতেই ব্যস্ত!
(সমাপ্ত)
নিমোবাবু হেজহগ আর পরক্যুপাইনের তফাৎ বাপকে হাত পা নেড়ে খুব বোঝাচ্ছিলেন। সেই থেকেই বাপ ব্যাটা ছবি এঁকেছে। আমি গপ্পো লিখেছি। ও হ্যাঁ গপ্পোটা নিমোবাবু আর মা মিলে ইংরেজিতে ট্রানস্লেটও করেছেন বেশ কিছুটা। পুরোটা শেষ করে পোস্ট করব।


No comments:

Post a Comment