সুস্মিতা কুণ্ডু
তিনটে ছোট্ট ম্যাঁওপুষি
দস্তানা পরে খুব খুশি,
লাল নীল আর বাদামী
মা কিনেছে খুব দামী।
হাত ঘুরিয়ে দেখছে তাই
এমনটি আর কারোর নাই,
নেচে নেচে পার্কে গেল
দস্তানাজোড়া ভুলে এল।
বাড়ি ফিরে কান্নাকাটি
মা-তো রেগে নাড়েন ঝুঁটি
“না পেলে খুঁজে দস্তানা
মাছভাজাটিও মিলবে না”
মনের দুঃখে তিনটি ছানা
খোঁজে চারিদিকে দস্তানা,
ঘরে, বাগানে, দুয়ারে, ছাদে।
ভেউ ভেউ করে শুধু কাঁদে।
অবশেষে মেলে জোড়াখান
আনন্দেতে ধরল যে গান
“ও মা গো মা, মিঁয়াও মিঁয়াও
মোদের নাচন দেখে যাও।”
মা ছুটে আসে কাজ ফেলে
মাছটা সবে ছেড়েছে তেলে
বললে তাদের “একটু রোসো
মাছভাজা দিই, খেতে বোসো।”
গরম গরম মাছভাজাটি
নাদা হ’ল খেয়ে পেটটি।
চেয়ে দেখে কী সর্বনাশ
দস্তানাময় মাছের আঁশ।
নোংরা হল দস্তানা যে
মা তো বেজায় রেগে গেছে।
সাবান দিয়ে ঘষে ঘষে
দস্তানাগুলো কাচল কষে।
সপসপে করে ধুয়ে জলে
কুড়মুড়ে রোদে দিল মেলে,
দস্তানা হ’ল আগের মত
তাই দেখে মা খুশি কত।
হাত বুলিয়ে দেয় মাথায়
চল না দেখি মায়ে ছানায়,
ধরব ইঁদুর নাদুস নুদুস
রেঁধেই খাব হারুস হুপুস।
তিনছানা আর মা ছোটে
ধরল ইঁদুর একটা মোটে,
কালো কালো চোখের মণি
তার ধূসর বর্ণ গাত্রখানি
ছানাদের মন কেমন কেমন
আহা কেমন হোঁদলবরণ
পিটপিট করে দ্যাখে চেয়ে
ওকে আমরা নেব খেয়ে?!!
মা, মা গো মা দোহাই তোমার
ইঁদুর খাবার চাইব না আর,
আমরা ওকে পুষব বরং
নামটি দেব পুটুসচরণ।
সবাই মিলে মজায় মাতে
চার বেড়াল আর ইঁদুর সাথে,
নয়কো ওরা শত্রু যে আর
বন্ধু হয়েই থাকবে সবার।
(“The three little kittens” রাইমটির ছায়া অবলম্বনে লেখা ছড়াটি)

No comments:
Post a Comment