সবুজ সবুজ পাতার ‘পরে একটা ডিম সাদা,
মিষ্টি চুমোয় ঘুম ভাঙালো আকাশের ঐ চাঁদা।
রবিবারে সুয্যিমামা বলল তাকে ‘হ্যালো!’
অমনি ডিমের ভেতর থেকে শুঁয়ো বাইরে এল।
বেরিয়ে বলে ‘বড্ড খিদে, জিভেতে জলে আসে’,
লটরপটর চলল শুঁয়ো খাওয়ারের তল্লাশে।
সোমবার খেল একটি আপেল টুকটুকে লাল,
এঁকে বেঁকে শুঁয়ো চলে, কেমন মজার চাল।
মঙ্গলবার সকাল বেলায় পেল খিদে জব্বর,
দুইখান খেল ন্যাশপাতি, চিবিয়ে কচরমচর।
বুধবারেতে তবুও পেটে দৌড় লাগায় ছুঁচো,
খান তিনেক পেয়ারা খেল করে কুঁচো কুঁচো।
বৃহস্পতি বারেতে ভাই খিদেয় পাকায় নাড়ি,
চার চারটে কলা খেয়ে হ’ল আরাম ভারী।
শুক্রবারে তবুও পেটে জ্বলছে আগুন হুহু,
পাঁচটা কমলালেবুর কমে ভরবেনা পেট, উঁহু।
পাঁচদিন ধরে খেয়েও শুঁয়ো বলে ‘আরও চাই’।
শনিবারে হ’ল মহাভোজ, এস মেনুটা শোনাই।
একখানা কাপকেক আর আইসক্রিম কোণ,
এই দুইখান দিয়ে শুঁয়ো করলো উদ্বোধন।
তারপরেতে পড়ল পাতে ছানাটা একদলা,
তরমুজের রইল পড়ে শুধু বীজ আর খোলা।
সসেজ খেয়ে তুলল ঢেঁকুর তৃপ্তি করে বেজায়,
জানত না কো এত্ত মজা ললিপপটি চাটায়।
শেষপাতেতে রইল চটপটা আমের আচার
ক্যাডবেরিটা খেয়ে শুঁয়োর ইচ্ছে হ’ল নাচার।
নাচতে গিয়ে পেটটা ধরে শুঁয়ো গড়ায় ধুলোয়
“উহ্ আহ্! মলুম গেলুম! আমি পেটের ব্যথায়।”
ছ’দিন ধরে ভোজটি খেয়ে এবার কেমন সাজা,
রবিবার ফের চিবিয়ে খেল একটি পাতা তাজা।
সবুজ পাতা খেয়ে গায়েব পেটেব্যথা বেবাক,
নিজের পানে চেয়ে শুঁয়ো হ’ল ভারী অবাক।
সপ্তাহকাল খেয়ে শুঁয়ো বেজায় হয়েছে মোটা,
নিজের গায়ের চারিধারে বুনল বাড়ি গোটা।
রেশম সুতোয় বোনা বাসা ‘কোকুন’ যে তার নাম,
ওরই ভেতর হপ্তাদুয়েক শুঁয়োর চলবে যত কাম।
দিন পনেরো কেটে গেল, সবাই অপেক্ষাতে বসে,
এই বুঝি শুঁয়ো বাইরে আসে, গালভর্তি হেসে।
হঠাৎ জাদুর কাণ্ড দেখে, অবাক সবাই অতি!
কোকুন কেটে বেরিয়ে এল মস্ত প্রজাপতি।
ডানায় যে তার রামধনু রঙ ঝিকিমিকি করে।
প্রকৃতিমায়ের জাদুতে শুঁয়ো, প্রজাপতিরূপ ধরে।
(সমাপ্ত)
“The very hungry caterpillar” (by Eric Carle)
-এর ছায়া অবলম্বনে।

No comments:
Post a Comment