সুস্মিতা কুণ্ডু
সেই দিনটার গপ্পো বলি
যেদিন মায়ের বেজায় জ্বর,
খোকন শুধু একলা ঘরে
বাবা গেছেন দূর শহর।
সারা বিকেল খেলে ধুলে
খোকন ফিরল সাঁঝবেলা,
ঘর তখনও আঁধার ঘেরা
বাতি নেভানো তুলসীতলা।
বুক ঢিপঢিপ, ভয় যে লাগে
ছুটল খোকন মায়ের কাছে,
“মা... মা গো মা” ডাক দিয়ে
মা তখনও শুয়েই আছে।
আদর করে মা কে ধরে
কপালটাতে রাখল হাত,
ও মা, এ কী, বড্ড গরম
গা যে আগুন, জ্বরের তাত।
দিশেহারা ছোট্ট খোকন
ভেবেই না পায় কী যে হবে,
কাকে ডাকে, কাকে বলে,
কে-ই বা ওষুধ এনে দেবে।
তড়িঘড়ি ভেবেই খোকন
বাবার রুমাল নেয় ভিজিয়ে,
মায়ের মাথায় জলের পট্টি
আলতো হাতে দেয় লাগিয়ে।
বাবার পড়ার টেবিল ঘেঁটে
নম্বরটা মিলল শেষে,
কাঁপা হাতে বোতাম টেপে
“ডাক্তারকাকু বাঁচাও এসে।”
তড়িঘড়ি এলেন তিনি
নাড়ি দেখে খোকার মায়ের,
দিলেন ওষুধ, ইঞ্জেকশন
তবেই তো জ্বর নামল গায়ের।
অত্তটুকুন খোকনসোনা
এক নিমেষে বড় হ’ল,
পথ্য খাওয়ায় নিজের হাতে
মায়ের মুখে হাসি খেলল।
বাবা যখন ফিরল বাড়ি
অবাক শুনে কাণ্ড খোকার,
কোলে তুলে কত্ত আদর
দিল চুমো শতেক হাজার।
মা বলল বুকে টেনে
“খোকন আমার সঙ্গে আছে,
বিপদ আপদ জ্বর জ্বালা
সাধ্য কী তার ঘেঁসবে কাছে।”

No comments:
Post a Comment