ছড়া : ডিড্ডিমগড়ের হাম্পটি

ডিড্ডিমগড়ের হাম্পটি
সুস্মিতা কুণ্ডু

এক যে ছিল মজার দেশ, নামটা ডিড্ডিমগড়
সেইখানেতে বাস করে কারা, কাদেরই বা ঘর?

বলছি বলছি একটু রোসো, তাড়ার আছে কী?
ডিমের দেশের গল্প এবার, কইতে এসেছি।

আজব দেশের রাজা রাণী, কোটাল এবং মন্ত্রী,
এক একটা যে আস্ত ডিম্ব, প্রজা মালী সান্ত্রী!

সবাই ডিম গোটা গোটা, আছে চোখ নাক কান 
পটর পটর কয় যে কথা, আছে মুখ একখান  

ইয়া বড় গড়গড়ে ডিম, লিকলিকে হাত পা
দেশটা জুড়ে চলে বেড়ায়, ‘গড়গড়গড় ধাঁ’

ডিড্ডিমগড়ে ভারী মজা, বাঁধনহারা ভাই 
‘সেদ্ধ খাব, ভেজে খাব’, হুমকি সেথা নাই?

এমন দেশে একটা শুধু, নিয়ম লেখা আইনে
আর যা করো লাফিওনা কেউ, বাঁয়ে এবং ডাইনে।

হাঁটো ঘোরো চেঁচাও গাও, যতখুশি করা মজা
দড়াম করে লাফাও যদি, মিলবে চরম সাজা। 

দুম দুমা দুম মারামারি, ধাঁই ধপাধপ ধাক্কা
এসব যদি ভুলেও করো, মারবে সেপাই গাঁট্টা

ডিড্ডিমগড়ের ডিমেরা সব, বাধ্য প্রজা ভারী
খোলসগুলো ভাঙার ভয়ে, খেলার সাথে আড়ি। 

কিন্তু ছিল একটি যে ডিম, ভারী মজার নামটি
সবাই তাকে বেজায় বকে, ডাকে ‘দুষ্টু হাম্পটি’!

দুপুরবেলায় সবাই যখন, ঘুমোয় নাকটি ডেকে
হাম্পটি পালায় দরজা খুলে, ধরবে কে আর তাকে। 

রাজপ্রাসাদের মস্ত পাঁচিল, হাম্পটি যে যায় সেথায়
দড়ি ধরে দেওয়াল বেয়ে, বসল চড়ে মাথায়। 

ডিগবাজি খায় ঐ উঁচুতে, লাফায় দাড়ুম দুড়ুম
তাই না দেখে জানলা থেকে, রাজার আক্কেল গুড়ুম। 

হাম্পটি নাচে ধেই ধেই ধেই, পাঁচিল কাঁপে থরথর
শ্যাওলা ছিল ইঁটের মাথায়, ‘গেল গেল ধর ধর!’

পড়ল হাম্পটি পা পিছলে, ‘সড়াৎ! ধপাস! ফট্!’
যেই না ঠেকল মাটিতে গা, ভাঙল খোলস ‘মট্!’

সাদা মতন খোলসখানায়, ইয়াব্বড় হ’ল গর্ত
রাজা চেঁচান প্রাসাদ থেকে, “শিগ্গির ওকে ধর তো।”

ঘোড়ায় টানা গাড়ি নিয়ে, রাজার সৈন্য ছোটে 
এমনধারা খবর শুনে, মেলা যে লোক জোটে।

আলতো করে হাম্পটিকে সব, তুলল গাড়ির ভেতর
জুড়িগাড়ি হাঁকিয়ে ঘোড়া, ছুটল প্রাসাদ চত্বর।

বদ্যি এল হাকিম এল, এল গুণীন তান্ত্রিক
কেউ পারেনা জুড়তে তবু, হাম্পটিকে যে ঠিকঠিক।

ভাবনা বেজায় রাজার মাথায়, “কী করি, কী করি!
হাম্পটির ওই ফাটা মাথা, কী দিয়ে যে জুড়ি!”

“তাইতো বলি সবটি সময়, বড়দের কথা মানবে
নইলে ‘পরে হাম্পটির মত, বিপদে পড়ে কাঁদবে।”

কেঁদে কেঁদে হাম্পটি বলে, “ভুল হবে না আর।
“লক্ষ্মী হব শান্ত রব, মাফ করে দাও এইবার।”

রাজা তখন নিজে হাতে, রত্নকোষটি খুলে
স্বর্ণকারকে বললেন ডেকে, “যা লাগে নাও তুলে।”

“গলিয়ে সোনা ছাঁচ বানিয়ে, জোড়ো হাম্পটির মাথা”
ঘাড় নাড়িয়ে স্যাঁকরামশাই, রাজাকে দিল কথা।

সাদা খোলসে সোনা দিয়ে, বুজল মাথার ফুটো
হাম্পটি হ’ল বেজায় খুশি, প্রণাম ঠোকে দু’টো।

“রাজামশাই এবার থেকে, হ’ব আমি শান্ত
নইলে এমন বিপদ হবে, কে বা সেটা জানত”

ডিড্ডিমগড়ে খুশির জোয়ার, ‘রাজামশাইয়ের জয়!’
হাম্পটি এবং ডিমেরা সব, মনের সুখেই রয়।

(“Humpty Dumpty sat on a wall...” নার্সারি রাইমটির ছায়া অবলম্বনে।)

No comments:

Post a Comment