নিকপিক

 


নিকপিক

অনেক অনেক দিন আগে এক দূর দেশে একটা রোদ ঝলমলে সকাল হল। নীল রঙ মাখানো আকাশ তাইতে সাদা মেঘের দল হুটোপাটি করে সূয্যিমামার সাথে লুকোচুরি খেলছে। গাছের বাদামী ডালে সবুজ পাতারা বাতাসের ঝাপটায় লুটোপুটি করছে। সে এক ভারি মজার দিন। এমন দিনে কি কারোর মাটির তলায় ঢুকে বসে থাকতে ভালো লাগে? তাই সেদিন মোটু কেঁচো আর ছোটু কেঁচো মাটি খুঁড়তে খুঁড়তে খুঁড়তে ওপরে বেরিয়ে এল শেষমেষ। যেই না বেরনো চোখে আলোর ঝিলিক লেগে তো চারিদিক ভোঁ ভাঁ করতে লাগল। মোটু আর ছোটু তো কিছু ঠাহর করতে না পেরে এদিক ওদিক কানামাছির মত চলে বেড়ায়। এটায় সেটায় পাথরে নুড়িতে গাছের ডালে হোঁচট লেগে ধাঁই ধপাধপ আছাড় খায়। এমন সময় কে যেন বলে উঠল, 

-“কে হে তোমরা গোমুখ্যু! আঁধার থেকে আলোয় এলে চোখে হাত চাপা দিতে হয় জানো না? দুম করে বলা নেই কওয়া নেই মাটি ফুঁড়ে বেরিয়েই ড্যাবড্যাব করে আকাশপানে চেয়ে রইলে যে বড়! এই যে আমি যখন খোলস থেকে বেরিয়ে টুকি করে চোখে সবসময় রোদচশমা পরে থাকি। বলি তোমাদের কি সেটুকুও মাথায় ঘিলু নেই?”

এত বকুনি শুনে তো মোটু আর ছোটুর চোখের ভোঁ ভাঁ কেটে গিয়ে কানে ঝিঁ ঝিঁ শুরু হয়ে গেল। কোনও মতে পিটপিট করে চোখ মেলে এদিক ওদিক ঘাড় ঘুরিয়ে দেখল কে কথা কইছে। একটা আপেলগাছের গোড়ায় অনেকটা মোটু ছোটুর মতই দেখতে একজন তবে তার পিঠের ওপর ইয়া বড় একটা বাড়ি। কী মজাদার জিনিস রে বাবা! নিজের বাড়ি নিজের পিঠে করেই বইছে। মোটু ছোটু হেঁকে বলে, 
-“তা তুমিই বা কে হে বাপু! আগে তো কখনও আমাদের মাটির তলার পাড়ায় তোমায় দেখিনি? তুমি কি ওই বাড়ি ঘাড়ে করেই ঘুরে বেড়াও সবজায়গায়? 
তোমার ঘাড়ে ব্যথা হয় না? 
পিঠ কনকন করে না? 
কোমর টনটন করে না?”

সেই বকবকুনি বাড়িপিঠোটা বলে উঠল, 
-“সাধে কি তোমাদের গোমুখ্য বললাম? জানো না আমি শামুকমশাই! আর এইটে আমার বাড়ি বলো ঘর বলো খোলস বলো ঢাল বলো সবই! আসুক তো দেখি কোনও ব্যাঙ মুরগী ইঁদুর আমায় খুঁটে খেতে। দাঁতই ভেঙে যাবে, ঠোঁটই বেঁকে যাবে, জিভই আটকে যাবে। আর তোমাদেরকে তো পেলেই টপাটপ করে গিলে নেবে সবাই। ওইজন্যই তোমরা মাটির নিচে লুকিয়ে থাকো। আর আমি কেমন বুক ফুলিয়ে মাটির ওপর ঘুরে বেড়াই দেখো।”

আপেল গাছটার তলায় তিনজনে ঝগড়াঝাটি বেশ জোরদার জমে উঠেছে। মোটু ছোটু বলে খোলস জিনিসটা বেজায় বাজে, কোনও কাজের নয়। খামোখা পিঠের ওজন বাড়ানো। তার ওপর পিঠ চুলকোলে কী উপায়? 
ওদিকে শামুকমশাই জবাব দেয় যে খোলস ছাড়া মানুষ নাকি মানুষই নয় ইয়ে মানে কেঁচো নাকি শামুকই নয়। এই বলে পিঠের খোলস থেকে দুটো টাটকা বটপাতা বার করে কচরমচর করে চিবোতে লাগল শামুকমশাই। 
-“দেখলে আমার খোলসে দরকারে আমি খাবারদাবারও জমিয়ে রাখতে পারি!”

এমন সময় গাছের ওপর থেকে রিনরিনে সুরেলা গলায় কে যেন বলে উঠল, 
-“এই তোমরা তখন থেকে খালি ঝগড়াই করে চলেছো আমার বুঝি খিদে পায় না? দাও দেখি আমাকেও একটা বটপাতা শামুকমশাই। আগে সবাই পেটপুরে খেয়ে নিই তারপর নাহয় জমিয়ে ঝগড়াঝাটি করা যাবে। দাও দেখি ওই মোটু ছোটুকেও দু’টো করে পাতা।”
মোটু ছোটু আর শামুকমশাই ওপরপানে চোখ তুলে দেখে একটা সাতরঙা কেঁচোর মত কে যেন আপেলগাছের ডাল থেকে কথা কইছে। তার মাথায় আবার একটা লাল ফিতে ফুল বাঁধা। তিনজনেই হকচকিয়ে গেছে দেখে সেই সাতরঙা লালফিতেমাথা খিলখিলিয়ে হেসে বলে উঠল,
-“ও হো! আমার নামটাই তো বলিনি তোমাদের। আমি হলুম সাতরঙা শুঁয়োবতী। শামুকমশাইয়ের মত আমার খোলস নেই আর মোটু ছোটু কেঁচোভাইদের মত মাটির ভেতরও লুকোতে পারিনে তবে আমার গায়ে রোঁয়া আছে, তা জানো? কেউ ধরতে এলেই দেব পিঁকপিঁকপিঁকপিঁক করে ফুটিয়ে। তারপর এইসান চুলকোবে না ঠ্যালা বুঝবে!”

শুঁয়োবতীর কথা শুনে মোটু ছোটু আর শামুকমশাইও হেসে উঠল। 

শুঁয়োবতী ফের বলে উঠল, 
-“তবেই বোঝো! যে যেরকম সে সেরকমই ভালো! শামুকমশাই খোলসে ভালো আছে, মোটু ছোটু মাটির ভেতর দিব্যি রয়েছে, আর আমি রোঁয়ার চাদরে বেশটি আছি। তাই না?
চলো চলো আর বেশি কথা না বাড়িয়ে এই বেলা বরং চারজনায় নিকপিক করি।” 

মোটু ছোটু শামুকমশাই অবাক হয়ে বলে,
-“নিকপিকটা আবার কী জিনিস গো শুঁয়োবতী? আগে তো কখনও নাম শুনিনি!”
শুঁয়োবতী কুটুর কুটুর করে আপেলগাছের ডাল থেকে বড়সড় লাল টুকটুকু আপেলের গোড়াটা কামড়াতে কামড়াতে বলে, 
-“সবাই যখন যে যার খুশিমত খাবার এনে একজায়গায় বসে ভাগাভাগি করে খায় তাকেই বলে নিকপিক।”
শামুকমশাই হো হো করে হেসে বলে, 
-“ওটা নিকপিক নয় গো পিকনিক, পি ক নি ক!”
মোটু ছোটু কেঁচোভাইয়েরা হইহই করে বলে,
-“না না! নিকপিক পিকনিক পিকপিক ওসব কিস্যু নয়, ওটাকে তো আমরা চড়ুইভাতি বলি।”

শুঁয়োবতী এদিকে আপেলের গোড়াটা গাছ থেকে আলগা করে কেটে ধুপুস করে নিচের ঘাসের ওপর ফেলেছে। 
-“আরে বাবা যে নামেই ডাকো না কেন একসাথে খাওয়া আর মজা করাটাই আসল তো নাকি? শামুকমশাই তুমি আরো চারটিখানি কচি পাতা আনো দেখি!”
মোটু-ছোটুও বলে উঠল, 
-“আমরাই বা বাদ যাব কেন? শুধু কি বসে বসে খাবো নাকি? দাঁড়াও এখনই মাটির তলা থেকে মিঠে রসালো শিকড়বাকড় নিয়ে আসছি।” 

তারপর? 
তারপর আর কী! শামুকমশাই, মোটু ছোটু কেঁচোভাইয়েরা আর সাতরঙা শুঁয়োবতী চারজনায় মিলে লাল আপেল সবুজ পাতা আর মিঠে শেকড়বাকড় দিয়ে জমিয়ে নিকপিক করল। 

তুমিও চাইলে দূর দেশের সেই আপেলগাছের তলায় যেতে পারো ওদের সাথে নিকপিক করতে। যেদিনই ঝলমলে রোদ ওঠে সেদিনই ওরা নিকপিক করে কিনা। তবে নিজের খুশিমত খাবার নিতে ভুলো না যেন, নইলে আপেল বটপাতা আর শেকড়বাকড়ই চিবোতে হবে যে! 

(ছবি: আমি)

Oishik and Tinkerbell

 








Oishik and Tinkerbell

(রেখায় মা, রঙে আর গপ্পে ছা, ফোড়ন কাটায় ফের মা)
Once upon a time there was a little boy named Oishik. Oishik had friends like Sid, Kush, Arin, Gwen, Naomi, Nicolas, Eshan, Srithik, Clark, Elijah, Aizah, Lincon, Michaela, Elizabeth, AJ, Emma.
( মোট্টে এই ক’জনা বন্ধু!)
Oishik’s friends saw a dot.
What is that dot? It glows!
Oishik said,
[gasp] A fairy!
What is her name?
Ummm... Tinkerbell.
[gasp] It’s green. Yes it is Tinkerbell.
(চুপিচুপি বলি এই ব্র্যাকেটে গাস্প-টিকে আমি উচ্চারণ করে পড়ে ফেলেছিলুম বলে তিনি শেখালেন ওটা পড়ে নয় অ্যাক্টো করে দেখাতে হয়!)
Oishik was very clever and smart than any of his friends. But he loves non fiction and a little bit of fiction.
‘Hello’ said Tinkerbell.
Oishik saw Laverna.
Help!
(লাভার্না-কে না চিনতে পারলে কোনও দোষ নেই, উনি একটি কার্টুন বার্বি মুভির খলনায়িকা এবং ক্যাপ্টেন নিমোর বেশিরভাগ গল্পের পার্মানেন্ট ভিলেইন।)
Oishik went to his locater. He took all his powers.
(লোকেটর কোন শক্তিপুঞ্জের ঠিকানা আমি জানিনে। ক্যাপ্টেন নিমোর সব শক্তি ওইখেন থেকেই আসে। লোকেটরকে লোকেট করতে পারলে আমার বড় সুবিধে হত। বেশ মোবাইল চার্জ দেওয়ার মত একটু এনার্জি সঞ্চয় করে নিতুম।)
‘Clank smash crunch wham boom bam smack bang wham tabanga crushinga boom!’
and Laverna promised she will never come again.
(বন্ধুরা এখানে ভয়ানক যুদ্ধের গতিপ্রকৃতি একটু নজর করবেন। এমন লড়াইয়ের পর বেচারা লাভার্নার লক্ষ্মীমেয়ে না হয়ে আর উপায় আছে!)
The End.

ভূতের নাম

 ভূতের নাম

সুস্মিতা কুণ্ডু

মস্ত আতান্তরে পড়েছে ভূতেদের সর্দার মামদো ঘটাংঘট আর তার পেত্নী বৌ খটখটি। মাথা চুলকে চুলকে খুলিতে গর্ত হয়ে যাওয়ার জোগাড়। শেষমেষ ওই মানুষদের থেকে ধার নিতে হবে?
ছ্যা ছ্যা! তাহলে যে ভূতসমাজে আর মুখ দেখানোর জো থাকবেনা। তোমরা নিশ্চয়ই ভাবছ ভূতেদের আবার বিপদ কী? তারাই তো মানুষদের নাস্তানাবুদ করে বিপদে ফেলতে ওস্তাদ। আর ভূতেরা মানুষের থেকে ধারই বা কী নেবে? আরে ভূতেদের কি টাকাপয়সা লাগে যে মানুষের মহাজনের থেকে চড়া সুদে ধার নিতে ছুটবে? রোসো! ব্যাপারটা একটু খুলেই বলি তাহলে।
ঘটাংঘট আর খটখটির তিনটি ছেলে। হাঁউ, মাঁউ আর খাঁউ। নামগুলো শুনে মজা লাগছে তো? ভুরভুরিয়ে হাসি বেরিয়ে আসছে তো? কিন্তু ওই নামের বাহার করতে গিয়েই তো বিপদে পড়েছে ঘটাংঘট আর খটখটি। হাঁউ মাঁউ খাঁউ তো মানুষদের ভয় দেখিয়ে উৎপাত করে, জন্তুজানোয়ারদের লেজ টেনে সব্বাইকে তিতিবিরক্ত করে বাবা মায়ের মুখ গর্বে উজ্জ্বল থুক্কুড়ি কালো করতে থাকে। এদিকে খটখটির মনে মনে বড় একটা মেয়ের শখ। নিজের হাতে পাঁক আর পোড়া হাঁড়ির কালি দিয়ে রূপটান লাগাবে মেয়েকে। মাকড়সার জাল দিয়ে চুল বেঁধে দেবে। গুগলি শামুকের চচ্চড়ি রাঁধতে শেখাবে মেয়েকে। আরও কত্ত কী করবে! ছেলে তিনটে তো দু’দণ্ড মায়ের কাছে বসেই না।
তা মানুষ হাজার ডেকে ভগবানের সাড়া না পেলেও ভূতেরা চট করে তাদের আরাধ্য দেবতা মানে অপদেবতা শয়তানের সাড়া পেয়ে যায়। খটখটির মনের সাধ পূর্ণ করে এক ছোট্ট দুষ্টু পেত্নীছানা এলো তার কোলে। ঘটাংঘট বললেন মেয়ের নাম তার দাদাদের নামের সাথে মিলিয়ে হোক ‘পাঁউ’। না মানে একটা ফুটফুটে ঘুটঘুটে ভূতের ছানার নাম তো আর ‘মানুষের গন্ধ পাঁউ’ রাখা যায় না, তাই শুধু ‘পাঁউ’। চার ভাইবোন বেশ একসাথে ভয় দেখাতে যাবে,
‘হাঁউ মাঁউ খাঁউ
মানুষের গন্ধ পাঁউ!’
কিন্তু বাদ সাধল খটখটি। খটখটি আসলে বেশ যাকে বলে ওই মডার্ণ পেত্নী। ভূতেদের ওই নেত্যকালী, আন্নাকালী, ক্ষ্যান্তমণি এইসব ধরনের নাম খটখটির পছন্দ নয়। নাম হতে হবে এমন যে ভূত ভূত ছোঁয়াও থাকবে আবার বেশ ইয়ে মানে আধুনিকও হবে। নাম শুনলেই যেন মানুষরা ভয়ে একেবারে ভির্মি খায় এমনধারা নাম হতে হবে। তবে না ভূত সমাজের মোড়ল বংশের মান থাকবে!
খটখটির নিজের নামের বেলায় তো আর কোনও হাত ছিল না! বাপ মা যা নাম রেখেছে তাই মেনে নিতে হয়েছে। কিন্তু নিজের মেয়ের বেলায় কারোর কথা শুনবেনা খটখটি! এমনকি স্বামী ঘটাংঘটের কথাও না। ছেলেদের বেলায় ঘটাংঘট খটখটির কথা শোনেনি এখন ও-ই বা পাত্তা দেবে কেন শুনি?
কিন্তু আধুনিক নাম দেব বললেই তো আর এত সহজে দেওয়া যায়না! ভূতেরা চিরকাল ওই ঘটাংঘট খটাংখট মার্কা নাম দিয়েই অভ্যস্ত। অনেক ভেবে ভেবে শেষে খটখটি গেল ব্রক্ষ্মদত্যি পণ্ডিতমশাইয়ের কাছে। পণ্ডিতমশায়ের অনেক জ্ঞান, নিশ্চয়ই একটা উপায় বাতলাতে পারবেন। খটখটির মনের সাধ শুনে ব্রক্ষ্মদত্যিমশাই খড়ম খটখটিয়ে, টিকি নাড়িয়ে, বললেন,
-“হুমম! মানুষরাও আজকাল অনেক অদ্ভুত কিম্ভুত নাম রাখে বটে। ওই যে কী বলে ডিসপ্যাঁচ নাকি ডিসকোরানি... গাবদাগোবদা মোটাসোটা বই হয়। মানুষরা শুনি তো ওই থেকেই খুঁজে খুঁজে ছেলেপিলের নাম রাখে। তোমরাও তাই করোগে বরং।”
খটখটি তো এই শুনে নাচতে নাচতে মহানন্দে বাড়ি এল। তারপর ঘটাংঘটকে বলল,
-“মানুষদের বাড়িতে বাড়িতে তোমার ভূতপিশাচ অনুচরদের পাঠাও। আমার ওই ডিসকোরানি চাই চাই চাই।”
খটখটির কথা অমান্যি করে এমন সাধ্যি ভূতসর্দার ঘটাংঘটেরও নেই। অগত্যা দিকে দিকে ভূত গেল। রাতের অন্ধকারে মানুষেরা যখন সবাই নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছে তখন আলমারি থেকে, টেবিল থেকে, সবচেয়ে মোটা বইগুলো জানালা দিয়ে লম্বা লম্বা আঁকশি গলিয়ে, বস্তায় ভরে, তুলে আনতে লাগল ভূতের দল। এক রাতের ভেতরেই ঘটাংঘট আর খটখটির ঘর বইয়ে ভর্তি হয়ে গেল। খটখটি তো ভীষণ উত্তেজিত, মেয়ের একটা দারুণ নাম হবে বলে কথা! এদিকে উত্তেজনার বশে এটাই ভুলে গেছে সকলে যে ভূতেরা মানুষের লেখা পড়তে পারে না! কী কেলেঙ্কারী কাণ্ড! এই এত ডিসপ্যাঁচ জোগাড় করা তাহলে বৃথা? খটখটি তো মেয়ে কোলে ডাক ছেড়ে কাঁদতে শুরু করল। ঘটাংঘট আবার বউয়ের দুঃখ সইতে পারে না। ফের শরণাপন্ন হল মুশকিল আসান ব্রক্ষ্মদত্যির।
ব্রক্ষ্মদত্যি বললেন,
-“দ্যাকো বাপু, যখন পুরুতগিরি করতুম সব ওই মুখস্থ মন্ত্র পড়তুম। সংস্কৃত বাংলা কোনওটাই ছাই আমি না পড়তে পারতুম না লিখতে পারতুম! আর জীবদ্দশাতেই পড়াশোনা হল না তার এই প্রেতদশায় কি আর মানুষদের পুঁথি পড়তে পারি? ঘটাংঘট বাছা তুমি বরং এক কাজ কর। এত খেটে যখন মানুষদের বই জোগাড় করলেই তখল একটা গোটা মানুষকেই নাহয় ধরে আনো। সেই পড়ে পড়ে বলে দেবে’খন।”
ঘটাংঘট আর খটখটি বেশ পছন্দ হল বুদ্ধিটা। তিন ভাই হাঁউ-মাঁউ-খাঁউ গিয়ে ওমনি ফের হানা দিল মানুষদের পাড়ায়।
মানুষদের পাঠশালার মাষ্টারমশাই দীননাথ পোদ্দার মনের সুখে ছাত্র পিটিয়ে, পান্তা, আলুচচ্চড়ি আর মৌরলা মাছের টক দিয়ে ডিনার সেরে দিব্যি নাক ডাকিয়ে ঘুমোচ্ছিলেন। হঠাৎই ঘুমের মধ্যে অনুভব করলেন খাটশুদ্ধু হুশ্হুশ্ করে উড়ে চলেছেন। প্রথমে ভাবলেন পান্তা ভাত আর মাছের টক খেয়ে গ্যাস অম্বল হয়েছে বুঝি কিন্তু চোখ খুলতেই ভুল ভাঙল। মাথার ওপর টিনের চালের বদলে কালো আকাশ আর নীচে সারি সারি তালগাছের মাথা। দীননাথ পোদ্দারকে হাঁউ-মাঁউ-খাঁউ সোজা উড়িয়ে নিয়ে এল ভূতেদের আড্ডায়। দীননাথ ওড়া থামতে চোখ খুলে দেখেন তাঁকে ঘিরে গাদাগাদা ভূত আর মোটামোটা বই, ঠিক যেন ভূতেদের সাহিত্যসভা হচ্ছে আর তিনি যেন মধ্যমণি সভাপতি।
একটা বিকটদর্শন ভূত এসে দীননাথকে বলল,
-“এইয়ো মানুষ! আমি ভূতেদের সর্দার ঘটাংঘট। তোমাদের ওই মোটামোটা ডিসকোরানি পড়ে শিগগির আমার মেয়ের জন্য একটা নাম ঠিক করে দাও তো। নামটা ভৌতিকও হতে হবে আবার আধুনিকও হতে হবে। যদি তোমার দেওয়া নাম আমার গিন্নি খটখটির পছন্দ না হয় তাহলে ঘটাং করে তোমার ঘাড়টা মটকে দেব। আমার নাম এমনি এমনি ঘটাংঘট হয়নি, বুঝলে?”
সর্দার ঘটাংঘটের কথা শুনে আর তার পেত্নিগিন্নি খটখটিকে দেখে দীননাথ পণ্ডিতের সত্যিই ভয়ে দাঁতে দাঁত লেগে খটাখট আওয়াজ উঠতে লাগল। আর বাক্যব্যয় না করে সামনে থেকে একটা মোটা ডিক্সনারি টেনে নিয়ে নাম খুঁজতে শুরু করলেন। দীননাথ ভীতু হলেও মূর্খ নন। বিপদের সময় মাথা ঠাণ্ডা রাখতে জানেন।
এক এক করে যা চোখে পড়ছে বলতে থাকলেন। তাড়কা, শূর্পনখা, হিড়িম্বা... এমনকি কদলীবালা... সবরকমই চেষ্টা করলেন। কিন্তু ঘটাংঘট আর খটখটির কোনও নামই পছন্দ হয়না। বারবার বলে ‘এই বইটা নয়, ওই বইটায় দ্যাখো’। কিন্তু ওদের কে বোঝাবে যে সব ডিক্সনারিই সমান। শেষমেষ এ বই সে বই করতে করতে দীননাথ মাষ্টারের হাতে উঠে এল এক পিস কৃত্তিবাসী রামায়ণ। কোনও ব্যাটা মূর্খ ভূত বইয়ের মোটাসোটা চেহারা দেখে ডিক্সনারি ভেবে ভুল করে আঁকশি দিয়ে রামায়ণ টেনে এনে ভরেছে বস্তায়। এই সুযোগ দীননাথ পোদ্দারের। দীননাথ উচ্চৈঃস্বরে সুর করে রামায়ণ পড়তে শুরু করলেন। প্রথমটায় ভূতেরা বুঝতে না পারলেও খানিকবাদে রামায়ণ শুনে সবার বোঁ বোঁ করে মাথা ঘুরতে লাগল। ভির্মি খেয়ে পড়তে লাগল একে একে।
-“এই এই এ কী পড়ছ?”
বলে খটখটি যেই না দীননাথের হাত থেকে বইটা টেনে কাড়তে গেছে ওমনি কারেন্টের শক লাগার মত ছিটকে পড়ল দশ হাত দূরে। খটখটিকে পড়ে যেতে দেখে ঘটাংঘট যেই না বইটা ধরতে এল ওরও একই দশা হল। বাবা মার এই অবস্থা দেখে হাঁউ মাঁউ খাঁউ তিন ভাই এগিয়ে এল। বলাই বাহুল্য যে তাদেরও একই গতি হল। সব কঙ্কাল হাড়গোড়ে যেন ভূমিকম্পের মত ঝাঁকুনি লাগল। ঘটাংঘট মাটিতে পড়ে কাতরাতে কাতরাতে চেঁচাতে লাগল,
-“ওরে কে কোথায় আছিস এই অলুক্ষুনে বইসহ এই বজ্জাত মানুষটাকে শিগগির ফেরৎ দিয়ে আয়। নইলে আমাদের ভূতবংশ নির্বংশ করে ছাড়বে।”
খাটের ওপর রামায়ণ হাতে বসা অবস্থাতেই দীননাথ পোদ্দারকে ফের হুশহুশিয়ে উড়িয়ে ভূতের দল তার বাড়িতে রেখে এল। দীননাথ হাতের রামায়ণটাকে সশ্রদ্ধায় মাথায় ঠেকিয়ে, ঠাকুরের আসনের সামনে রেখে এলেন। এ যাত্রায় এই বইটাই প্রাণ বাঁচাল।
ওদিকে ঘটাংঘট একটু ধাতস্থ হয়ে উঠে গিন্নি খটখটিকে বললে,
-“মেয়ের নাম ওই পাঁউ-ই থাকবে! ফের যদি আধুনিক নামের বায়না করেছো...”
(সমাপ্ত)

Oishik Goes To Spaceland

 












The cow and the soup

 





অনেকদিন ক্যাপ্টেন নিমোর গল্প পোষ্ট করা হয়নি। অনেকগুলো গল্প জমে আছে। আজ একটা গজব গরুর গল্প শোনাই। গল্পের গরু গাছে ওঠে তো শুনেছ সবাই কিন্তু গরু পাহাড়েও চড়ে সেটা জান কি? শুধু তাই নয়, ঠাণ্ডা লাগলে সে গরু কী করে বলো তো?

The cow and the soup
———————————
Once upon a time there was a cow.
His name was Cowy.
He saw a mountain.
He was hiking on it.
ACHOO ACHHO!
He was feeling sick.
His Dad gave him chicken soup.
Until it was empty he felt better.
The End.
সঙ্গের ছবিটি রঙ করেছেন তিনি, রেখা টেনেছি আমি।

ভুটু আর টুটু

 


ভুটু আর টুটু

সুস্মিতা কুণ্ডু
তোমরা ভুটুকে চেনো না, আর টুটুকে তো চেনোই না। এ আমি হলফ করেই বলতে পারি। হ্যাঁ মানছি তোমরা জানো যে টুটু একটা হলদে পাখির ছানা আর ভুটু একটা গাবলুগুবলু ভেড়ার ছানা। তবে শুধু সেটুকু জানলে তো আর চিনবে না ওদের, তাই না? অবিশ্যি এতে তোমাদের একটুকুনও দোষ নেই। কাউকে চিনতে গেলে, জানতে গেলে, আগে তো তার সাথে খানিকটা মিশতে হয়, খেলতে হয়, মিলতে হয়, জুলতে হয়! আর মিলিজুলি করতে হলে তাদের বাড়ি যেতে হয়, নয় তো নিজের বাড়িতে ডাকতে হয় চানাচুর দিয়ে মুড়ি খেতে। মুশকিলটা তো ওখানেই! ভুটু-টুটুকে নাগালে পেলে তবেই না বাড়িতে ডাকবে। তবেই না কদবেলমাখা, কুলের চাটনি, আমের আচার জমিয়ে খাওয়া হবে। লুকোচুরি ধরাধরি খেলা হবে!
টুটু সারা দিনমান নীল আকাশের বুকে ফড়ফড়িয়ে ঘুরে বেড়ায়। তাকে একবার হাত নেড়ে ডাকতে গেলেই বলে,
-“আমার সময় নেইকো! পরে আসবো’খন।”
ব্যাস! এই না বলেই ডানা মেলে ফুড়ুৎ!
আর ভুটু? সে তো সকাল থেকে সাঁঝ সবজে ঘাসে বসে ঢুল ঢুল ঢুল ঘুম লাগায়। ডাকো দিকিনি একবার, কোনওমতে পিটপিট করে চোখটি খুলে বলবে,
-“কাল যাবো, আজ ঘুমোই?”
তারপরেই টপ করে আবার নাকটি ডাকতে শুরু করবে ‘ঘাঁআআ ফুশশশ, ঘাঁআআ ফুশশশ’ আওয়াজ তুলে।
এবার তোমরাই বলো দেখি এমন করলে ভাব হয়?
এমনি করে দিন যায় মাস যায় বছর যায়। টুটু ভুটু নিজেদের নিয়েই মেতে থাকে। কারোর সাথে তাদের খেলার সময় নেই। খেলুড়েরাও তাই আর টুটু ভুটুকে ডাকাডাকি করেনা। মিছে শোরগোল করে হবেটাই বা কী!
তবে হঠাৎই একদিন এমন একটা ঘটনা ঘটল যে টুটু ভুটু পড়ল বেজায় মুশকিলে। বিশেষ করে টুটু। টুটু কিনা ভারি ছটপটে। এক পলও সে এক জায়গায় চুপটি করে বসতে পারে না, শুধুই উড়ে বেড়ায়। এই গাছে ওই গাছে। এই ডালে ওই ডালে। এই বাগে সেই বাগে। এই করে করে টুটুর দিনরাতের ঘুমখানি একেবারেই জলে গিয়েছিল। ভোরে সূয্যিমামা ওঠার আগেই টুটু গাছের টঙের বাসাটি ছেড়ে সেই যে উড়তে বেরিয়ে যেত, ফিরত আঁধার নামলে।
এমনই উড়তে উড়তে সেদিন একটা ঝোড়ো বাতাস এত জোরে বইল যে টুটু ছিটকে গিয়ে পড়ল একটা ঝোপের ওপর। খুব বেশি চোট না লাগলেও টুটুর একটা ডানা বেশ জখম হল। কোনওমতে তো লাফিয়ে লাফিয়ে বাড়ি ফিরল টুটু। তবে উড়তে আর পারে না। বদ্যিমশাই বললেন কটা দিন উড়ে বেড়ানো ছেড়ে মাটিতেই হাঁটতে হবে টুটুকে। দিলেন পাঁচন খেতে। টুটুর তো মাথায় যেন আকাশটাই হুড়মুড়িয়ে ধসে পড়ল! এ কী ভয়ানক কথা। না উড়ে টুটু থাকবে কী করে!
টুটু তখন ছুটল ভুটুর কাছে। ছুটল মানে সত্যি সত্যিই ছুটল। ওড়া তো বারণ। ভুটুর কাছে পৌঁছে টুটু করুণ গলায় বলে উঠল,
-“অ ভুটু! বদ্যিমশাই যে মাটিতে হাঁটাহাঁটি করতে বলেছে! আমার এবার কী হবে?”
ভুটু আধেক শুনে আধেক না শুনে ঘুমজড়ানো গলায় বলে,
-“তা মাটি ঘাঁটাঘাঁটি করলে পালকগুনো একটু নোংরা হবে আর কী! বেশটি করে নেয়ে নিবি নাহয় তারপর।”
টুটু ফের বলে,
-“অ্যাঁ বলি নাইতে যাব কেন খামোকা! বলছি বদ্যিমশাই বিধেন দিলেন যে আমার ডানা মেলে ওড়া মানা! সেটার কী হবে?”
ভুটু বিশাল বড় কুমিরের হাঁ-এর মত হাই তুলে বলল,
-“ছানা খেলে যদি ওড়া মানা হয় তবে ক’দিন খাসনি বরং। তুই তো আবার উড়তে না পেলে হাঁপিয়ে ঝাঁপিয়ে একশা করবি।
এইবারে টুটু খচেমচে একশা হয়ে চেঁচাল,
-“এইয়ো ঘুমকাতুরে ভুটকো! বলি চোখের সাথে কানটাও বুজে ফেলেচিস ওই ঝামরিঝুমরি লোমে? বলছি ডানা মেলে ওড়া মানা আর উনি শুনছেন ছানা খেলে ওড়া মানা। হাঁটাহাঁটি আর ঘাঁটাঘাঁটিতে তফাৎটা কানে গেল না বুঝি?”
টুটুর সরু কিঁচকিঁচে গলায় কানে ছুঁচফোটানো চিৎকারের চোটে ভুটু আধবোজা চোখজোড়া এবার পুরোপুরিই খুলতে বাধ্য হল।
একটু মেজাজ করেই জবাব দিল,
-“কী হয়েছেটা কী সেটা বলবি তো! সেই থেকে একবার মশার মত পোঁ পোঁ করছে নয়তো সানাইয়ের মত প্যাঁ প্যাঁ করছে।”
ভুটু এমনিতে একদম ভালোমানুষ তবে ওই ওর ফুলকোফুলকো লোম নিয়ে কেউ কিছু বললে একটু আঁতে ঘা লেগে যায়।
শখের মধ্যে ভুটুর ওই দুটি-ই। ঘুমনো আর একটু ঝামরি ঝুমরি মেঘের মত নরম সাদা লোমগুলোর খেয়াল রাখা। খেজুরপাতার চিরুনি দিয়ে একটু আঁচড়ানো, একটু কাঁঠালিচাঁপা ফুলের সুবাস ছড়ানো। আর টুটু কিনা সেই আদরের জিনিসটাকেই অমনটি করে বললে। কার না রাগ হয় বলো দেখি!
টুটুও সেটা বুঝতে পেরে একটু সুর নরম করল। টুটুর কপালে যে সমস্যা জুটেছে তার জন্য তো আর ভুটু দায়ী নয়। তাই একটু করে পুরো ঘটনাটাই খুলে বলল টুটু। কেমন করে ডানায় চোট পেল আর বদ্যিমশাই-ই বা কী বললেন, সঅঅব কিছু।
ভুটু সব শুনেটুনে বুঝলে যে কেন টুটু এত উতলা হয়েছিল। বেচারি সারাদিন শুধু উড়তে ভালোবাসে আর তাকেই যদি হেঁটে চলে বেড়াতে হয় তাহলে মন তো খারাপ হবেই। ভুটু কী আর রাগ করে থাকতে পারে টুটুর ওপর!
ভুটু তখন বললে,
-“শোন টুটু একটা উপায় বলি। তুই বরং আমার মাথার ওপর চেপে বোস। তারপর বল কোথায় কোথায় যেতে চাস। আমি তোকে নাহয় একটু বেড়িয়ে আনব’খন হেথাহোথা। এ আর এমন কী কঠিণ কাজ!”
টুটুরও মনে হল মতলবটা খারাপ নয়। নেই মামার চেয়ে কানা মামাই ভালো। নিজে না উড়ে যেতে পারলেও ঘাড়ে চেপে বেড়ানোই সই।
তারপর বেশ ক’দিন টুটুকে মাথায় চাপিয়ে ভুটু ঘুরে বেড়াতে লাগল। তবে শুরুতে ব্যাপারটা যতটা সহজ মনে হয়েছিল ভুটুর, ক’দিন পর আর ততটা সহজ মোটেও লাগল না। টুটু একটু সময়ের জন্যও বসতে দেয় না। একবার বলে ‘এদিকে চলো’ তো একবার বলে ‘ওদিকে চলো’। একবার গাছের তলায় দৌড় করায় ভুটুকে তো একবার নদীর পাড়ে ছোটায়। ভুটু বেচারা একটু আলতুসি আরামে থাকতেই ভালোবাসে। তার কী আর এত দৌড়ঝাঁপ সয়! এদিকে টুটুকে না বলতেও বাধো বাধো ঠেকছে। যদি ভেবে বসে ভুটুটা একেবারেই কুঁড়ে আর আলসে। ক’দিন এইটুকু উপকার করতেও পেরে উঠছে না। ভুটুর তাহলে আর মানটা থাকে কী করে!
অনেক ভেবে ভুটু শেষমেষ একটা মতলব আঁটল। টুটুর যেমন ডানায় চোট লেগেছে, ভুটুরও যদি আচমকা পা মচকে যায় তাহলে তো আর হেঁটে বেড়াতে হয় না!
যেমনি ভাবা তেমনি কাজ। সেদিন টুটুকে মাথায় নিয়ে মাঠে ছুটতে ছুটতে হুট করেই মিছিমিছি হোঁচট লাগার ভাণ করে হুমড়ি খেয়ে পড়ল ভুটু। পড়েই চিৎকার জুড়ল,
-“আহা রে! উহু রে! টুটু রে! গেলুম রে! আমার পা-টা গেল রে! আর মনে হয় সারাজীবন হাঁটা হল না আমার। তোকেই বা কী করে মাথায় চাপিয়ে বেড়াতে পারব আর!”
এদিকে আচমকা যেই না ভুটু পড়ে গেছে মাটিতে টুটুও আরেকটু হলে পড়ার জোগাড় হয়েছিল ভুটুর মাথার ওপরটি থেকে। নেহাতই ঝটপটিয়ে ডানা মেলে উড়ে সামলে নিয়েছিল তাই!
এ কী এ কী! টুটু যে আবার উড়তে পারছে! কই ডানায় তো ব্যথা লাগছে না! বেশ কয়েকবার ডানা ঝাপটে ওপর নিচে ডাইনে বাঁয়ে উড়ে নেয় টুটু! ডানা বিলকুল ঠিক!
একপাক ঘুরে নেচে নিয়ে গান ধরে টুটু,
-“ তাইরে নাইরে নাই রে
ওরে ভুটু ভাই রে
আর যে ব্যথা নাই রে
খুশিতে গান গাই রে!”
ভুটুও টুটুর ডানা ঠিক হয়ে গেছে দেখে বেজায় খুশি আর অবাক দুটোই। হাত পা মেলে বসে বসে টুটুর নাচ দেখে। নিজেরও যে একটু নাচতে সাধ হয়নি তা বলব না তবে ভুটু এখন চোট লাগার ভান করেছে কিনা। নাচতে গেলেই টুটু বুঝে যাবে যে ভুটু মিছে কথা কইছিল। ছি ছি! সে ভারি বাজে ব্যাপার হবে। টুটু হয়ত বা মনে আঘাত পাবে ভুটুর মিছে কথা বলে পিছু ছাড়ানোর এই মতলব জানলে।
নাচা গানা শেষ হলে ‘পরে টুটু খেয়াল করে ভুটু পা ছড়িয়ে বসে ড্যাবড্যাবিয়ে চেয়ে আছে। টুটু মনে মনে জিভ কাটে। নিজের ডানা ঠিক হয়ে গেছে বলে এত লাফালাফি ওড়াউড়ি করছিল ওদিকে ভুটু বেচারার যে পায়ে চোট লেগে গেছে সেটা বেমালুম ভুলেই বসেছে! না জানি বেচারা কত ব্যথা পেল। আলতো করে উড়ে এসে ভুটুর মাথায় বসে টুটু বলে,
-“ভুটু ভাই, মন খারাপ করিসনে। যতদিন না তোর পা ঠিক হবে ততদিন আমি তোকে ছেড়ে কোথাও নড়ব না। একবারটি শুধু বদ্যিমশাইয়ে তেঁতো পাঁচন দাওয়াইটা নিয়ে আসি দাঁড়া তোর জন্য। তারপর যতদিন না তোর পা-টা সারবে ততদিন রোজ তোকে গান শোনাবো, তারপর মিঠে জাম এনে দেব...”
টুটু আরও অনেক কিছু বলে চলে তবে সে সব ভুটুর কানে আসে না। তার যে দু’চোখে ঘুম জড়িয়ে এসেছে। না জানি আবার কতদিন টুটুর সেবার ঠ্যালায় সাধের ঘুমটিকে বিদায় জানাতে হবে। পরের বার কিছুতেই আর এমন মিছে নাটক করবে না ভুটু। তার চেয়ে সত্যি কথা বলে দিলে ঝকমারি অনেক কম। ভাবতে ভাবতেই কখন চোখ লেগে যায় ভুটুর, নাকে বাজনা বাজে,
“ঘাঁআআ ফুশশশ... ঘাঁআআ ফুশশশ...”
(শেষ)
ছবি: আমি ইন্টারনেট থেকে দেখে দেখে 😁

লালকমল, নীলকমল, রাক্ষুসী, ওগর, ডাইনোসর এবং নিমো



লালকমল, নীলকমল, রাক্ষুসী, ওগর, ডাইনোসর এবং নিমো
অথবা
এক সাংঘাতিক গপ্পো।
🔹🔹🔹🔹
গৌরচন্দ্রিকা: আমাদের বাড়িতে, ছোটোবেলায় একটা ভীষণ সুন্দর গানে গানে ভরা লালকমল নীলকমল, বুদ্ধু ভূতুমের গল্পের ক্যাসেট ছিল। রোজ একবার সেটা টেপ রেকর্ডারে শুনতামই! গানগুলো আজও মনে আছে, মাঝেমাঝে গুনগুনও করি। সেদিন ছানাকে সেইটেই শোনালুম আর বাংলা ইংরিজি মিশিয়ে গপ্পোটিও বোঝালুম। তারই ফল পেলুম আজ সকালে। অবশ্যই ছানার নিজের স্টাইলে। আমার টিকাটিপ্পনীসহ দিলুম ছানার হাতে লেখা সেই গপ্পো।
🔹🔹🔹🔹🔹
Lal komol and Neil komol
🔹🔹🔹🔹🔹
One day Lal komol and Neil colmol saw Nemo.
(বানানটা একটু নজর করবেন বন্ধুরা)
But then a green monster came in back.
Oishik warned out,
“Watch out!”
But they did’nt listen.
(উত্তেজনায় ‘ টি হেথাহোথা হয়েই যেতে পারে, ভাবনাটা বুঝুন বন্ধুরা। আর নিমোবাবু নিজে যেন কত কথা শোনেন!)
When they did not, they were eaten.
That will happen.
(লেখক এইখেনে নিজের মাকে কপি করছেন। ‘কথা না শুনলে এমনটাই হয়’ মন্ত্র যে মা সারাদিন জপ করেন সেইটেই তিনিও বেচারা লালকমল নীল কলমল-কে আঙুল তুলে বলেছেন।)
Oishik tried to smash the eggs.
CRACK! (এচ্চেয়ে বড় করে ডিমফাটানোর শব্দ লিখতে পারবুনি। নিচের ছবিতে দেখে নিও বাপু)
It like broke into a 100 pieces.
(হেথায় like এর ব্যবহার কিন্তু লাইক অর্থে হয় নাই। তিনি আজকাল কথা বলার সময় কেতদারি করে মাঝেমাঝে ‘লাইক’ বলে থাকেন।)
২ Ogres
(২ বলতে উনি চ্যাপ্টার ২ বোঝাতে চেয়েছেন। পণ্ডিতমানুষরা ঠিকই বুঝতে পারবেন কিন্তু লেখকের বাবার ভরসা হয়নি তাই চ্যাপ্টার লিখে দিয়েছেন। গল্পের ওপর এমনি করে কলম চালানোয় লেখক যারপরনাই রাগান্বিত হয়েছেন)
(ও হ্যাঁ, খোক্কস মানে Ogres বলা হয়েছে লেখককে)
The Ogres decided to have a fight with dinos.
(লালকমল নীলকমল নিমো ডাইনো খোক্কস... এখনও যদি মাথা না গুলিয়ে থাকে নিজ দায়িত্বে পরের পার্ট পড়ুন বন্ধুরা।)
Oishik chose Zuul to fight with the Ogres cause it has the strongest tail club to flatten the Ogres.
(আমারই মত যাঁরা অভিজ্ঞ paleontologist ছানার হতভাগ্য অভিভাবক তাদের জন্য Zuul নামক তৃণভোজী ডাইনো প্রজাতি সম্পর্কিত তথ্য কমেন্টবক্সে দিলুম।)
Thud!
It’s club flattened the ogres at once!
(জুল তো লেজ দিয়ে খোক্কসদের পিটিয়ে চিঁড়েচ্যাপ্টা করে দিল। এবার কী হল? এখনও সাহস থাকলে এগোন)
3 Rakushi (চ্যাপ্টার ৩ বুইতে পেরেচেন লিচ্চয়)
Rakushi also decided to fight. Oishik chose Giganotosaurus. (এই ভদ্রলোকের তথ্যর জন্য কমেন্টবক্স পিলিজ)
Rakushi was swelled. His legs can not move.
(উত্তেজনায় হিজ হার সব গুইলে গেছে)
Giganotosaurus cracked 2 leg-bones of Rakushi.
“Durbol aau!”
(রাক্ষুসী বেজায় ‘দুর্বল’ বাংলায় চেঁচাতে শুরু করেছে গো শেষমেষ)
also the hand.
(হাতও গেল। এমন সাংঘাতিক মারপিট আমি নিজেও কোনও গপ্পে লিখতে পারিনি বাপু। আমি সকলকে জেলে ভরেই ছেড়ে দিই)
Euoplocephalus slammed her head.
“Oh amar koshto hoiche”
(এবার আমার ‘কষ্ট হইচে’ বেচারি রাক্ষুসীর জন্য)
Therizinosaurus ripped Rakhusi but then Rakhusi was eaten.
(চার চারটে ডাইনোর সঙ্গে লড়াইয়ে কখনও এঁটে উঠতে পারে রাক্ষুসী! যেমন অজিত কুসুমকে খেইচিলি, এবার ঠ্যালা বোঝ! গপ্পো শ্যাষ!)
রাক্ষুসীখেকো ডাইনোদের ছবি কমেন্টবক্সে।


মিলির একদিন




মিলির একদিন

সুস্মিতা কুণ্ডু
একটা ছিল বিশাল বড় দোকান, শহরের ঠিক মাঝখানটিতে। কী নেই সেই দোকানে! জামা কাপড়, বাসনকোসন, ঘরসাজানোর জিনিস, খাবারদাবার, ফলমূল আনাজপাতি, মশলা থেকে শুরু করে বই খাতা পেন রঙ ছোটোদের খেলনা, সব সঅঅঅব পাওয়া যায় সেই দোকানে। গোটা শহরের খোকাখুকুরা আসত তাদের মা বাবার হাত ধরে সেই দোকানে নানানরকম জিনিস কিনতে। সে বাবামায়েরা অবশ্য গোটা দোকান ঘুরে ঘুরে সংসারের হাজারখানা জিনিস কিনলেও ছোটোদের মনটা পড়ে থাকত দোকানের একটা বিশেষ কোণায়। যেখানটায় আছে রাজ্যের খেলনা। রঙচঙে বল, খেলনা গাড়ি, আর পুতুল! তাক জোড়া এত এত পুতুল। কোনটা তুলোর মত তুলতুলে, কোনটা কাঠের মত ঠকঠকে। কোনটার কালো চুল, কোনটার সোনালী চুল। কোনওটার চোখ নীল তো কোনওটার বাদামী। আর তাদের পরনের পোশাকের যে কত রকমারি সে আর কী বলি তোমাদের। ছোটো খোকাখুকুদের আলমারিতে যা জামা থাকে ঠিক সেরকমই সব ঝালর দেওয়া, রেশমের সূতোর নকশা তোলা, রঙবেরঙের বোতাম বসানো জামা পুতুল খোকাখুকুদের গায়ে।
দোকানের সেই জাদু ঝলমলে কোণটিতে বাকি সব পুতুলদের সাথে থাকত মিলি। এককালে মিলির মাথাজোড়া সোনালী চুল ছিল। তাইতে দুটো বিনুনি বাঁধা ছিল, বিনুনির ডগায় লাল ফিতে দিয়ে ফুল বানানো। মিলিকে শুইয়ে দিলে তার নীল চোখের পাতাটা বুজে যেত, আবার যেই না বসিয়ে দেওয়া চোখদুটো এমনি করে খুলে যেত যেন মনে হত ঘুম থেকে জেগে উঠল এই বুঝি! এমনকি মিলির হাত দু’খানি আর পা দু’খানি দিব্যি এদিক ওদিক ঘোরানোও যেত। আর মিলির জামাটার কথা যদি তোমরা শোনো তাহলে হয়ত ওরকমই একটা জামা তোমরাও চেয়ে বসবে। একটা আশমানি রঙ জামা তাইতে সাদা মেঘের মত ফুলকো ফুলকো ঝালর দেওয়া ছিল। দেখলে মনে হবে যেন শরতের নীল আকাশে পেঁজা তুলোর মত সাদা মেঘ ভাসছে। তবে এত কিছুর পরেও মিলির মনে ভারি দুঃখ। তার কারণ কী জানো?
এ সবই মিলির এককালে ছিল, এখন আর নেই। এখন মিলির সোনালী বিনুনীর চুলগুলো সব জটপাকানো। একটা বিনুনি থেকে তো লাল ফিতে খুলে কোথায় হারিয়েই গেছে। মিলির নীল চোখের পাতা এখন আর শুলেও বোজেনা, সবসময় খোলাই থাকে। আর মিলির সেই আশমানি রঙ জামার যা দশা হয়েছে সে দেখে তোমরা বুঝি কেঁদেই ফেলবে। শরতের আকাশ থেকে সে জামা এখন বাদলাদিনের কালো মেঘে ছাওয়া আকাশ হয়ে গেছে। সাদা ঝালর গুলোয় ময়লার পরত পড়েছে। দেখলেই বোঝা যাবে কেউ আর মিলির খেয়াল রাখে না।
রাখবেই বা কেন! দোকানে কত নামীদামী সাজানোগোজানো পুতুল। খোকাখুকুরাও তাদের নিয়েই হইচই করে। তাদের মা বাবারা পয়সা দিয়ে নতুন নতুন সেই পুতুল কিনে দেয় খোকাখুকুদের। সেই পুতুল হাতে নিয়ে নাচতে নাচতে গাইতে গাইতে বাড়ি যায়। মিলি পড়ে থাকে কাঠের তাকের এক কোণে। কখনও কখনও মিলি বিড়বিড় করে বলে,
-“এই বেশ ভালো হয়েছে। আমায় দেখতে পেলে হয়ত সব খোকাখুকুরা হাসাহাসিই করত বুঝি। তার চেয়ে আড়ালে আছি সেটাই ঠিক।”
মুখে তাই বললেও মিলি মনে মনে কি আর ব্যথা পেত না? খোকাখুকুদের বাড়িতে না জানি কত মজা! রোজ কেমন তাদের খেলার সাথী হওয়া যায়। মিছিমিছির চায়ের আসর, পুতুলের বিয়ে, সুপারহিরো সাজা, খোকাখুকুর মাবাবাদের মুখে ঘুমপাড়ানি গান শোনা, আরও কত কী! সে সব কি আর মিলির কপালে জুটবে কখনও! মিলি তাই পড়েই থাকে দোকানের আলো ঝলমলে কোণটির এক আঁধার তাকের তলায়।
এমনি করেই দিন যায়। তবে এক একটা দিন বুঝি একটু আলাদা রকমেরই হয়। সেই দিনগুলোতে আঁধার তাকের তলাতেও আলো পৌঁছয়। কীসের যেন একটা হাসি, কেমন যেন একটা খুশি খেলে বেড়ায় বাতাসে। গুনগুনিয়ে গান ভেসে আসে।
তেমনই একটা দিনে এক ছটপটে খোকন তার মাবাবার হাত ধরে এল সেই বিশাল বড় দোকানটাতে। তাকে নিয়ে তো মা বাবা জেরবার! একবার এদিকে ছোটে তো একবার ওদিকে লাফায়। দোকানের গড়গড়ানো সিঁড়ি দিয়ে দশবার ওঠে আর নামে। দৌড়োদৌড়ি করতে করতেই খোকনটা এসে থামল দোকানের ভেতর সেই সবথেকে বেশি আলো ঝলমলে কোণটায়। থমকে দাঁড়ায় খোকনটা একটুখানি। তারপর হামাগুড়ি দিয়ে কী যেন খোঁজে পুতুলের তাকের ঠিক তলাটায়। তারপর হাতে করে টেনে বার করে আনে সেটা। ও মা! এতো মিলি! খোকনটা মিলির লালফিতেওয়ালা সোনালী বিনুনিটা দেখতে পেয়েছিল বুঝি তাকের তলায় বেরিয়ে থাকতে।
মিলিকে হাতে নিয়েই ছটপটে খোকনটা যেন একটু চুপচাপটি হয়ে গেল। আহারে পুতুলটাকে কেউ দেখেনি! ওমনি করে তাকের তলায় মুড়েশুড়ে পড়েছিল। দ্যাখো দিকি জামাটাও কেমন নোংরা হয়ে গেছে। আর অন্য বিনুনিটার লাল ফিতেটাও গেছে হারিয়ে। ইসস ওর যদি একটা এমন পুচকুলি বোন থাকত তাহলে কিছুতেই কি তাকে এমন দুঃখটা পেতে দিত? চেয়ে দেখো দিকি একবার পুতুলটার নীল চোখদুটোয়। কত গভীর, কত মায়া মমতায় ভরা। ঠিক খোকনের মায়েরই মত। মায়ের চোখদুটো শুধু কালো, এই যা তফাৎ!
খোকনের চোখে জল টলটল করে। ধুলোমাখা পুতুলটাকে বুকে জড়িয়ে ছোটে মা বাবার দিকে। মা তখন দোকানদার কাকুকে দাম মেটানোর লাইনটায় পয়সা নিয়ে দাঁড়িয়ে আর বাবা পাশেই দুই হাতে বড় বড় দুইখান ব্যাগ ধরে হাঁসফাঁস করছে। খোকন শিগগির সেখানে গিয়ে হাঁপাতে হাঁপাতে বলে,
-“আমাকে এই পুতুলটা কিনে দেবে?”
মা সেই ধুলোমাখা ছেঁড়াখোঁড়া পুতুলটা দেখে চমকে বলে ওঠে,
-“এটা কোথায় পেলি? এ তো পুরনো পুতুল। দেখছিস না কেমন যেন ভাঙাচোরা হয়ে গেছে! তুই বরং অন্য কোনও পুতুল নয়তো ব্যাটবল বা ওই খেলনা গাড়িগুলোর একটা নিয়ে আয় সোনা, আমরা কিনে দেব।”
খোকন চোখ ছলছলিয়ে বলে,
-“না মা! আমার অন্য কোনও খেলনা চাই না! এই পুতুলটাই চাই।”
মা একটু রাগ করে বলে,
-“দোকানে এরকম বায়না করতে নেই!”
দোকানদার কাকু যে সামনে টেবিলটার ওইপারে বসেছিল সেও বলে,
-“এই পুতুলটা মনে হয় ভুল করে তাকে রয়ে গেছে। এটা তো বেচবার মত হালতে নেই। খোকাবাবু তুমি বরং অন্য কোনও খেলনা বেছে নাও।”
এদিকে মিলির ভয়ে যেন দমটা আটকে আসছে। এতদিন তাকের আঁধারে থেকে থেকে ওর মনের সব আশাই হারিয়ে গিয়েছিল যে কোনওদিন কোনও সত্যিকারের খোকাখুকুর খেলনার ঘরে ওর জায়গা হবে। আজ যখন এই খোকনটা ওর জামার ধুলোগুলো ঝেড়ে দিয়ে ওর জটপাকানো চুলগুলো ছাড়িয়ে দিল তখন মিলির যেন মনে হল এমনটা সত্যিই যদি হয়! খোকনটার কালো চোখদুটো কেমন ভালোবাসায় ভরা। এই খোকনটার বাড়িতেই মিলির জায়গা হবে তাহলে?
এখন যদি খোকনের মা আর দোকানের লোকটার জন্য মিলির আর যাওয়া না হয় খোকনের বাড়ি! ইসস এখন যদি মিলি চোখদুটো বুজে ফেলতে পারত!
দুরুদুরু বুকে মিলি ভাবতে থাকে এই বুঝি ওকে আবার ওই আঁধার তাকটার তলায় ফেলে এল কেউ!
এমন সময় কে যেন একটা মিলির হাতটা ধরে নেয়। খোকনের মত কচি হাত নয়, বড়দের হাত।
এ তো খোকনের বাবা! হাতের ভারি ব্যাগটা নামিয়ে খোকনের হাত থেকে মিলিকে নিজের হাতে নিয়েছে খোকনের বাবা। মিলির সব আশাই বোধ হয় শেষ।
মিলির নীল চোখদুটো খোলা থাকলেও চারিদিকে যেন আঁধার ঝেঁপে আসে বুঝি। এমন সময় কানে আসে খোকনের বাবার গলা,
-“দাদা আপনি পুতুলটার যা দাম সেই দামেই এটা প্যাক করে দিন। আমরা নেব পুতুলটা।”
মিলির নিজের কানকে ভরসা হয় না। কী শুনছে ও? ঠিক শুনছে কি?
ঘোর কাটতে কাটতেই মিলি দেখে খোকনের কোলে চেপে যেন কোথায় চলেছে। খোকনের মা খোকনের পাশে বসে হেসে বলছে,
-“তোরা বাপ ব্যাটায় পারিসও বটে! দোকানের লোকটাও ভ্যাবাচ্যাকা খেয়ে গেছে।”
খোকনের বাবা সামনে বসে হো হো করে হাসে আর বলে,
-“দ্যাখোই না। কেমন তেল দিয়ে খোকনের পুতুলের সব হাত পা সারিয়ে দেব। আর বেশটি করে সাবান দিলে ওই সোনালী চুল আর নীল জামাটা কেমন নতুনের মত ঝকঝক করবে দেখবে।”
খোকনের মা বলে,
-“থাক, ওই পুরনো জামাটা আর পরাতে হবে না! আমি বরং সেলাইয়ের মেশিনটা একবার চালিয়ে দেখি। একটা পুতুলের জামা কি আর বানাতে পারব না?”
খোকন কোলে বসা মিলিকে আলতো করে শুইয়ে দিয়ে বলে,
-“এখনও অনেকটা পথ বাড়ি যেতে বুঝলি? তুই একটু ঘুমো। আমি বরং একটা নাম ভাবি তোর, কেমন?”
খোকন জানল কী করে? সত্যিই তো মিলির খুব ঘুম পেয়েছে। একটু ঘুমিয়েই নেওয়া যাক বরং, মনের ওপর দিয়ে যা ধকল গেল। ঘুম থেকে উঠে খোকনকে নিজের নামটা বলে দিতে হবে, আর খোকনের নামটাও শুধিয়ে নিতে হবে। ভাবতে ভাবতেই রাজ্যের ঘুম নেমে আসে মিলির চোখে, এতদিন খুলে থাকা নীল চোখদুটো আপনা আপনিই বুজে আসে।
(সমাপ্ত)
🔹🔹🔹🔹
এই গপ্পোটার শেষে ক’টা কথা না বললেই নয়। ক্যাপ্টেন নিমোর একটা খুব প্রিয় গল্পের বই হল কোর্দুরয়। একটা ছোট্ট টেডি বেয়ারের গল্প। গল্পটা আমারও খুব মন টানে। সেই থেকেই গল্পটা লেখার ইচ্ছে হল। শুধু তাই নয়, ঠিক এই গল্পের মিলি পুতুলটার মত দেখতে একটা পুতুল ছোটোবেলায় বাবা কিনে দিয়েছিল। আমি তখন টু/থ্রি-তে পড়ি, একবার আমাদের বাড়িতে চুরি হল। চোর এটা ওটা সেটার সঙ্গে নিয়ে গেল আমার পুতুলটিকে। কী ভেবেছিল কিজানি। পুতুলের পেটে কী সোনাদানা পাবে ভেবেছিল কী জানি। যাই হোক জিনিস নিয়ে পালাবার পথে বাড়ির পেছনের মাঠে বেশ কিছু জিনিস আবার ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। তার মধ্যে আমার পুতুলখানিও ছিল কিন্তু একটা পা ভাঙা অবস্থায়। হয়ত ওটা ভেঙে ভেতরে কিছু আছে নাকি চেক করেছিল। মা বহুকষ্টে ওটা আবার জুড়ে দিয়েছিল কিন্তু আগের মত আর ওটা ঘোরানো বাঁকানো যেত না। অনেক বড় বেলা অব্দি পুতুলটা আমাদের সঙ্গে সঙ্গে হেথাহোথা ঘুরেছে। মিলির এই গল্প তাই কোর্দুরয়, রাশিয়ান রূপকথার পুতুলের মত আমার সেই পুতুলটা আর যেখানে যত পুতুল আছে খোকাখুকুদের বাক্সে, তাদের জন্য।
🔹🔹🔹🔹
ছবি: আমি। ইন্টারনেটে এই ধরনের আঁকাগুলো খুব ভালো লাগছিল। তাই দেখে দেখে একটা চেষ্টা করলুম।
🔹🔹🔹🔹
এবার ছোটোদের টাস্কের পালা। কাজটা এটাই যে তোমরা সক্কলে তোমাদের সবচেয়ে প্রিয় খেলনার ছবি, আর কেন খেলনাটি তোমাদের প্রিয় সেই গপ্পো আমায় কমেন্টবক্সে জানিও কেমন?