কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালি

 



#স_হ_জ_গ_ল_প
কাঠবিড়ালি কাঠবিড়ালি
সুস্মিতা কুণ্ডু

এক বটগাছের কোটরে একটা কাঠবিড়ালি থাকত। একদিন তার বড় সাধ গেল, কাঁচা নয় ভাজা বাদাম খাবে। বাদাম ভাজা কি মুখের কথা? উনুন চাই, আগুন চাই, কড়াই চাই, হাতা চাই, বালি চাই। এত ঝামেলা, তবুও কাঠবেড়ালি পিছু হঠল না। কাঠবিড়ালি গাঁয়ে গিয়ে হাজির হল। ভুলুদের বাড়ির দরজায় টোকা দিয়ে বললে, 
-“আমায় একটা উনুন দেবে? বাদাম ভাজব।”
ভুলুর মা বললে, 
-“সে নাহয় দেব বাছা তবে আগুন তো দিতে পারব না। আজ আমাদের সব কাঠকুটো শেষ হয়ে গেছে।”

কাঠবিড়ালি তখন গেল কাঠুরের বাড়ি। বলল, 
-“কাঠুরে ভায়া আমায় একটু কাঠকুটোর আগুন দেবে? বাদাম ভাজব।”
কাঠুরে বলল, 
-“সে তো দেব তবে হাতা-কড়াই আমি দিতে পারব না বাপু। আমার বৌ যে তাইতে খোকাখুকুর ভাত রাঁধছে।”

কাঠবিড়ালি তখন গেল কামারের বাড়ি। হেঁকেডেকে বলল, 
-“কামারভায়া আমায় একটা হাতা-কড়াই বানিয়ে দাও না গো, বাদাম ভাজব।”
কামার বলল, 
-“ওই তো কত কড়াই কত হাতা পড়ে রয়েছে আমার কামারশালায়। যেটা খুশি নিয়ে যাও না, কে মানা করেছে! তবে বালি আমার কাছে নেই, ও তোমাকে নিজেকেই খুঁজে আনতে হবে।”

কাঠবিড়ালি বালি খুঁজতে গেল নদীর চরে। গিয়ে বলল, 
-“ও নদী! তুমি কুলকুলিয়ে বয়ে যাও। আমার একটু উপকার করো ভাই। ক’ মুঠো বালি চাই যে আমার। বাদাম ভেজে খেতুম।”
কেউ সাড়া দিল না। 
কাঠবিড়ালি ফের হেঁকে শুধোয় একই কথা। 
তবুও কেউ সাড়া দিল না। 

নদীর পাড়ে চরছিল সাদা বক। সে হো হো করে হেসে বললে, 
-“কী বোকা কাঠবিড়ালি! খামোখা বসে বসে হাঁকডাক করছে। এই তো এত বালি ছড়িয়ে রয়েছে চারিদিকে। নিয়ে যাও না বাপু কত চাই তোমার।”
কাঠবিড়ালি ঝোলাভরে বালি তুলে নিল। বকের ওপর একটু রাগ হল বোকা বলেছে বলে তবে কেউ উপকার করলে তার ওপর মান করতে নেই। তাই আর কথা বাড়াল না।

কাঠবিড়ালি তো খুশিতে নাচতে নাচতে বালি হাতা কড়াই আগুন সব নিয়ে চলল ভুলুদের বাড়ি। ভুলুর মায়ের উনুনে বাদাম ভাজবে। সব মাল মশলা নিয়ে পৌঁছলে পর ভুলুর মা উনুনে আগুন দিয়ে তাইতে কড়াই বসিয়ে বালি ঢেলে হাতা দিয়ে, সব সাজিয়ে গুছিয়ে তয়ের করে দিল। তারপর বলল, 
-“হ্যাঁ গো কাঠবিড়ালি সবই তো আনলে। তবে বাদাম যে ভাজবে সেই বাদামটা কই?”
কাঠবিড়ালির তো মাথায় হাত! এটা ওটা সেটা জোগাড় করতে গিয়ে আসল জিনিসটাই তো আনতে ভুলে গেছে। এখন গাছে উঠে বাদাম পাড়ার মত সময় তো আর নেইকো। এবার কী উপায়? এত খাটুনি সবই বোধ হয় জলে গেল। 

এমন সময় সাদা বক তার ইয়া বড় ঠোঁটে একটা পুঁটুলি ঝুলিয়ে উড়তে উড়তে এসে হাজির হল। হাঁপাতে হাঁপাতে ভুলুদের বাড়ির দাওয়াতে বসে বললে, 
-“জানতুম এমনটাই হবে! তুমি যা হাঁদা কাঠবিড়ালি! এই নাও ধরো দেখি কাঁচা বাদাম। এবার ভেজে খাও যত খুশি।”
সবাই চেয়ে দেখে বকের পুঁটুলি ভরা কাঁচা বাদাম। ভুলুর মা তো ঝটপট বাদাম ভাজতে শুরু করল ফটফট আওয়াজ তুলে। কাঠবিড়ালি নেচে নেচে ঘুরে ঘুরে সেই বাদামভাজা বিলোলো ভুলুকে, কাঠুরে ভাইয়ের খোকাখুকুকে, কামারভায়াকে, সবাইকে। একা খাওয়ায় মজা কই? 

এদিকে সাদা বককে বাদামভাজা দিতে গেলে সে হাই তুলে বললে, 
-“আমার দাঁত কই যে বাদামভাজা খাব?”
কাঠবিড়ালি তখন শিগগির ভুলুর মায়ের হেঁশেল থেকে শিল নোড়া এনে আমকাঠের পিঁড়ি পেতে বসল, সাদা বককে বাদাম বেটে দিতে হবে তো! বকটা একটু বেশি বকবক করলে কী হবে, ভারি ভালোমানুষ যে। 

(ছবি: সুকান্ত)

No comments:

Post a Comment